বর্ষায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার খাল-বিল ও জলাশয় পানিতে তলিয়ে যায়, আর সেখানে প্রাকৃতিকভাবে জন্মায় শাপলা। কাজ না থাকার এই মৌসুমে বিল থেকে শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছে উপজেলার প্রায় তিন হাজার পরিবার। বাসসের প্রতিবেদনের শিরোনাম অনুযায়ী, গোপালগঞ্জে বছরে কোটি টাকার শাপলা বিক্রি হয়।
শাপলা সাধারণত বর্ষায় ডুবে যাওয়া বোরো ধানখেত, পাটখেত ও আমন ধানখেতে বেশি জন্মায়। জাতীয় ফুল হলেও বিভিন্ন অঞ্চলে এটি জনপ্রিয় সবজি। বর্ষায় কৃষকের কাজ কম থাকায় অনেক কৃষক, বেকার ও অন্য পেশার মানুষও এ কাজে যুক্ত হয়েছেন। পুঁজি লাগে না বলে কাজটি লাভজনক।
সিংগা, রাহুথড়, হাতিয়াড়া, শিল্টাসহ বিভিন্ন বিলে খুব ভোরে নারী-পুরুষ নৌকা নিয়ে শাপলা তোলেন। শাপলা বিক্রিকে কেন্দ্র করে রাহুথড়ে পাইকারি বাজার গড়ে উঠেছে; পাইকারেরা শাপলা কিনে জেলা সদরসহ যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল ও লোহাগড়ায় বিক্রি করেন।
রাহুথড়ের শাপলা আড়তের ইজারাদার শংকর কুমার বসু জানান, প্রতিদিন সকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌকায় শাপলা এনে পাইকারি দামে বিক্রি করা হয়; ভ্যান, ইজিবাইক ও নছিমনে করে প্রতিদিন প্রায় ২০-৩০ গাড়ি শাপলা যায় কাশিয়ানী সদর, যশোর, খুলনা, আলফাডাঙ্গা ও ভাটিয়াপাড়ায়।
শাপলা সংগ্রহকারী গোবিন্দ বিশ্বাস ১০ বছর ধরে বর্ষায় শাপলা বিক্রি করে সংসার চালান; প্রতিদিন তিনি প্রায় ৫০০-৭০০ টাকার শাপলা তুলতে পারেন বলে জানান। কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. এজাজুল করীম বলেন, বর্ষায় বিলাঞ্চলে কোনো ফসল হয় না; তখন কৃষকেরা শাপলা তুলে সংসারের খরচ জোগান, আর শাপলা পুষ্টির চাহিদাও মেটায়।
প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) গোপালগঞ্জ থেকে পাঠানো।
সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)