আগস্টের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসের মাউন্ড্রিজে ফ্লিকনার ইনোভেশন ফার্মে এসেছিলেন নাসার বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা। কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি (কে-স্টেট)-র সঙ্গে তাদের যৌথ উদ্যোগে একটি চালু খামারে স্যাটেলাইটের তথ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। কে-স্টেট এক্সটেনশনের বিবরণ উদ্ধৃত করে Precision Farming Dealer এ খবর দিয়েছে।
সফরটি ছিল নাসার "স্পেস ফর অ্যাগ" কর্মসূচির অংশ, যাতে টেক্সাস ও ওকলাহোমার খামারেও যাওয়া হয়। নাসার আর্থ সায়েন্স বিভাগের পরিচালক ক্যারেন সেন্ট জার্মেইন বলেন, কক্ষপথ থেকে স্যাটেলাইট যা দেখে আর কৃষকের মাঠে যা দরকার, সেই ফাঁক পূরণই লক্ষ্য। নাসার স্যাটেলাইট ভূগর্ভস্থ জলাধার থেকে বৃষ্টি হয়ে বাতাসে পানির চলাচল, মাটির ওপরের জৈববস্তু, ফসলের স্বাস্থ্য ও ধরন এবং ঝড়ের ক্ষতি মাপতে পারে, যা পানি ব্যবস্থাপনায় এবং দ্রুত বিমার ক্ষতি নিরূপণে কাজে আসে।
রে ফ্লিকনার ও তাঁর ছেলে রায়ানের পাঁচ প্রজন্মের এই পারিবারিক খামার নতুন প্রযুক্তি, পানি সাশ্রয় আর তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্তের একটি জীবন্ত গবেষণাগার। ফ্লিকনার জানান, এ পর্যন্ত সবচেয়ে কাজের প্রযুক্তি OpenET (ওপেনইটি), যা স্যাটেলাইটের তথ্য দিয়ে বাষ্পীভবন-প্রস্বেদন, অর্থাৎ ফসল কতটা পানি খরচ করছে, তা হিসাব করে। "আমি কতটা পানি ব্যবহার করছি আর প্রতিবেশীরা কতটা, তা বুঝতে এটা ব্যবহার করছি," বলেন তিনি।
কে-স্টেটের কানসাস ওয়াটার ইনস্টিটিউটের পরিচালক সুসান মেটজগার বলেন, লক্ষ্য নাসার প্রযুক্তি দ্রুত কৃষকের হাতে পৌঁছানো। নিখুঁত পূর্বাভাসে যদি দেখা যায় আগামী সপ্তাহে এক ইঞ্চি সেচ না দিলেও চলবে, সেই পানি পরে ব্যবহার করা যায় বা জলাধারেই থেকে যায়। কে-স্টেটের গবেষণা বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট হান্স কুটজি বলেন, পানি, মাটির স্বাস্থ্য ও সহনশীলতার সমস্যা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমাধান করা কঠিন।
সেন্ট জার্মেইন জানান, কৃষির সঙ্গে নাসার সম্পর্ক ১৯৭২ সালে প্রথম ল্যান্ডস্যাট স্যাটেলাইট থেকে। উন্নত রাডার ও হাইপারস্পেকট্রাল ইমেজারসহ নতুন মিশনগুলো মাঠে চোখে পড়ার আগেই গাছের স্বাস্থ্য ও রোগের সংকেত ধরতে পারবে বলে আশা। ২০২২ সালে এই খামারে কাজ শুরু হয়, সহায়তা দিচ্ছে নাসার কৃষি জোট NASA Acres।
ছবি: NASA Landsat 7 / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Precision Farming Dealer





মন্তব্য
(০)