সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঝাটিবেলাই মৌজায় ফুলজোড় নদীর পাড়ের কৃষিজমি প্রায় দুই বছর ধরে বালুর স্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। যে জমিতে বছরখানেক আগেও ভুট্টা, বেগুনসহ নানা ফসল হতো, সেখানে এখন আগাছা জন্মেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীর নাব্যতা বাড়াতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ফুলজোড় নদী খনন করে। খননের বালু রাখা হয় নদীপাড়ের ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমিতে। পরে সরকারের কাছ থেকে এই বালু ইজারা নেন এক স্থানীয় ইজারাদার। কিন্তু প্রশাসন ও ইজারাদারের মধ্যে আইনি জটিলতায় বালু সরানোর কাজ এখন বন্ধ।
কৃষকদের হিসাবে, বালুর নিচে আটকে আছে ১০ জন কৃষকের প্রায় ১৫ থেকে ২০ বিঘা আবাদি জমি। আগে এসব জমি থেকে বছরে ২৫০-৩০০ মণ পেয়ারা, ৭০-১০০ মণ ভুট্টা এবং ৫০-৭০ মণ বেগুনসহ অন্যান্য ফসল উঠত। চাষ করতে না পারায় কৃষকেরা প্রতিবছর লাখ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রফিকুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন জমি পড়ে থাকায় তাঁরা চরম বিপাকে আছেন; জমা বালু দ্রুত সরিয়ে নিলে আবার ফসল ফলানো যেত। অন্যদিকে সময়মতো বালু পরিবহন করতে না পেরে ইজারাদারও লোকসানে আছেন।
ইজারাদার মো. আতিকুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘আমরা সাধারণ মানুষের ক্ষতি চাই না। জমি থেকে বালু তুলে নিতে চাইলেও আইনি জটিলতার কারণে এখন সরানো যাচ্ছে না। সমস্যা মিটলেই বালু সরিয়ে নেওয়া হবে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ফরিদ হোসাইন বিষয়টি স্বীকার করে জানান, বালু তোলার কারণে কৃষকেরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং এ নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কামারখন্দের ইউএনও ড. বিপাশা হোসাইন বলেন, কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে বালু সরানোর বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে; গভীর রাতে গোপনে কাজ হওয়ায় জড়িতদের হাতেনাতে ধরা কঠিন। ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আদালতে একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে।
প্রতিবেদন: গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ, প্রতিদিনের সংবাদ।
সূত্র: প্রতিদিনের সংবাদ





মন্তব্য
(০)