চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও বেশি ফলনে শেরপুরে সোনালি আঁশে সুদিন ফিরেছে। জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, ১ হাজার ৯১১ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১ হাজার ৯১২ হেক্টরে পাট হয়েছে, উৎপাদন হবে ৪ হাজার ১৫ মেট্রিক টন; উৎপাদিত পাটের বাজারমূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা। গত বছরের চেয়ে দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে।
জেলায় ৯০ শতাংশ জমির পাট কাটা শেষ; বিঘায় গড় ফলন ১০–১২ মণ। কৃষকদের হিসাবে বিঘাপ্রতি খরচ ১০–১২ হাজার টাকা আর মুনাফা ১৫–২০ হাজার; পাটখড়ির আঁটি ৮০–১০০ টাকায় বিক্রি করে বাড়তি আয়। সদর উপজেলার মাঠে এখন পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর ব্যস্ততা; হাটবাজারে কেনাবেচা জমে উঠেছে, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে পাট যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়।
কামারেরচরের সাহাব্দির চরের পাটচাষি কাদের মিয়া বাসসকে বলেন, এবার ফলন বেশ ভালো, রোগবালাইও কম; ন্যায্য দাম পেলে লাভবান হবেন। চরমোচারিয়ার মুন্সিরচরের সাইদুর রহমানের কথায়, আঁশের মান ভালো, সময়মতো বৃষ্টিতে সেচ খরচ কমেছে—উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্য দাম নিশ্চিত হলে কৃষক আরও আগ্রহী হবেন। সিন্ডিকেট করে মধ্যস্বত্বভোগীরা যাতে দাম কমাতে না পারে, সে জন্য সরকারের কঠোর নজরদারি চান চাষিরা।
শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসলিমা খানম নীলু জানান, এ বছর পাট চাষ বাড়াতে জেলা পাট অধিদপ্তর প্রণোদনা কর্মসূচিতে প্রায় ৮ হাজার কৃষককে ১ কেজি করে বীজ দিয়েছিল; পরিবেশবান্ধব হওয়ায় দেশে-বিদেশে পাটের বহুমুখী ব্যবহার ও চাহিদা বাড়ছে। এক যুগ আগেও জেলায় পাটচাষি ছিলেন অনেক কম; হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন বাড়ায় এবার চাষির সংখ্যাও বেড়েছে।
বাসসের শেরপুর প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)