বেসরকারি চাকরির পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামে পেঁপে চাষ করে সাড়া ফেলেছেন জয়পুরহাটের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হেদায়েত হোসেন শিপলু। দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদক রেজাউল করিম রেজা জানাচ্ছেন, পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা কুড়িপাড়া গ্রামে ৬ বিঘা জমিতে গড়া তাঁর বাগানে এখন থোকায় থোকায় পেঁপে ঝুলছে; স্থানীয়দের কর্মসংস্থান হয়েছে, অন্য কৃষকেরা উৎসাহ পাচ্ছেন এবং জেলা কৃষি বিভাগ পরামর্শ দিচ্ছে।
প্রায় আট মাস আগে ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বাগানটি গড়েন শিপলু; ছয় মাসের মাথায় ফল তোলা শুরু হয়। দেশি-বিদেশি জাতের প্রায় ১ হাজার ৮০০ গাছ লাগানো হলেও এখন ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ গাছ আছে; একেকটি পেঁপে সর্বোচ্চ ৫ কেজি এবং গাছপ্রতি ফলন ৪০ থেকে ৬০ কেজি। প্রতি মৌসুমে গাছপ্রতি গড়ে ৪০ কেজি পাকা পেঁপে ৪০-৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলে প্রায় ২৫ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রির আশা তাঁর।
শিপলু বলেন, ‘৬ বিঘা জমিতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ১,৮০০টি চারা দিয়ে পেঁপে বাগানটি শুরু করেছিলাম। জুন মাস থেকে পেঁপে বাজারে বিক্রি করছি। এখানে শাহী, হাইব্রিড ও নাসি কিংসহ কয়েকটি জাত রয়েছে।’ পাকা পেঁপে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন তিনি; ৭ লাখ টাকার খরচ এ মৌসুমেই উঠে যাবে এবং পরের মৌসুম থেকে লাভ হবে বলে আশা করছেন।
সাফল্য দেখে দূর থেকে পরামর্শ নিতে আসছেন অনেকে: কোকতারার জাকির ইসলাম পরিত্যক্ত জমিতে পেঁপে বাগানের পরামর্শ নিতে এসেছেন; বাগজানার মোকলেছুর রহমান বলেন, ঘাস, ভুট্টা, ধান ও কলায় ভালো ফলন না পাওয়ায় তিনি পেঁপে লাগাবেন। কুটাহারার জহুরুল ইসলাম বলেন, এই বাগানে ১৫ জনের মতো কৃষক কাজ করেন, যার আয়ে সংসার চলে ও ছেলেমেয়ে পড়ে।
প্রচলিত ধারার বাইরে কিছু করার চিন্তা থেকে নেওয়া এ উদ্যোগে শুরুতে অনেকে সংশয় জানালেও আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রমে সফল শিপলু; ছয় মাসে ফল দেওয়া পেঁপে উত্তরের যেসব জমিতে ধান-ভুট্টা ভালো হয় না, সেখানে বিকল্প হিসেবে সাড়া পাচ্ছে।
সূত্র: দেশ রূপান্তর — প্রতিবেদন: রেজাউল করিম রেজা





মন্তব্য
(০)