ইংল্যান্ডের নরউইচের জন ইনস সেন্টার (John Innes Centre) ও ইথিওপিয়ার জাতীয় কৃষি গবেষণা সংস্থার বিজ্ঞানীরা একটি বহনযোগ্য পরীক্ষা উদ্ভাবন করেছেন, যা প্রায় ৯০ মিনিটে গমের ব্লাস্ট রোগ নিশ্চিত করে। প্রচলিত পরীক্ষাগার পদ্ধতিতে এই ফল পেতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ লাগত।
২০২৬ সালের জুনে ইথিওপিয়ান ইনস্টিটিউট অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চের (ইআইএআর) অন্যতম প্রধান গম প্রজনন কেন্দ্র আম্বোতে পরীক্ষাটি মাঠে যাচাই করা হয় এবং আগস্টের মাঝামাঝি ফল প্রকাশ করা হয়। নেতৃত্ব দেন জন ইনস সেন্টারের অধ্যাপক ডায়ান সন্ডার্স; গবেষণা সহকারী লিয়াম বাটলার পরীক্ষাটির বড় অংশ তৈরি করেন। ইথিওপিয়ার পক্ষে ছিলেন ইআইএআরের জৈবপ্রযুক্তি প্রধান ড. দেজেনে গির্মা ও আম্বো কেন্দ্রের পরিচালক ড. জেমাল তোলা; সহায়তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্র (সিমিট)।
গমের ব্লাস্ট রোগ হয় ম্যাগনাপোর্থি ওরাইজি (Magnaporthe oryzae) ছত্রাকের একটি বিশেষ ধরন থেকে, যা গমের শিষে আক্রমণ করে এবং দানা চিটা ও প্রায় ফাঁপা করে দেয়; তীব্র প্রাদুর্ভাবে পুরো জমির ফলন নষ্ট হতে পারে। ১৯৮৫ সালে ব্রাজিলে প্রথম শনাক্ত রোগটি ২০১৬ সালে বাংলাদেশে এবং ২০১৮ সালে জাম্বিয়ায় পৌঁছায়। সাব-সাহারান আফ্রিকার সবচেয়ে বড় গম উৎপাদক ইথিওপিয়া এর বিস্তার পর্যবেক্ষণের সামনের সারির দেশ।
পরীক্ষাটি লুপ-মিডিয়েটেড আইসোথার্মাল অ্যামপ্লিফিকেশন (ল্যাম্প) পদ্ধতিতে কাজ করে, যা একটি স্থির তাপমাত্রায় রোগজীবাণুর ডিএনএ বাড়ায়; ফলে পিসিআর পরীক্ষার দামি থার্মাল সাইক্লারের বদলে সাধারণ হিটিং ব্লক, এমনকি পানির পাত্রেও চালানো যায়। এটি গমে আক্রমণকারী ধরনের নিজস্ব জিনগত চিহ্ন আলাদা করে ধরে; দ্বিতীয় একটি সংস্করণ শনাক্ত করে ফিউজেরিয়াম হেড ব্লাইট, যা দানায় বিষাক্ত অবশিষ্টাংশ রেখে যেতে পারে।
অধ্যাপক সন্ডার্স বলেন, যন্ত্রপাতি যা-ই থাকুক, বিশ্বের যেকোনো পরীক্ষাগারে ব্যবহারের উপযোগী করে এটি তৈরি। ইথিওপিয়া, বাংলাদেশ ও জাম্বিয়ার মতো সীমিত রোগনির্ণয় সুবিধার দেশে দ্রুত নিশ্চিত হতে পারলে কর্তৃপক্ষ রোগ ছড়ানোর আগেই শস্য ও যন্ত্র চলাচল সীমিত করা, প্রতিবেশী খামারকে সতর্ক করা বা প্রতিরোধী বীজ দ্রুত পৌঁছে দিতে পারবে; প্রজননবিদদের জন্যও বিপুল সংখ্যক লাইন প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য যাচাই করা সস্তা হবে।
ছবি: Matt Lavin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)