ভারতের কর্ণাটকের নাগরহোলে জাতীয় উদ্যান ও বান্দিপুর ব্যাঘ্র সংরক্ষিত এলাকায় আগ্রাসী গুল্ম ল্যান্টানা ক্যামারা এতটাই ছড়িয়েছে যে বনের তলদেশ কার্যত এক সবুজ মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। এতে তৃণভোজী বন্যপ্রাণী বন ছেড়ে খামার ও কফিবাগানে ঢুকছে। ডাউন টু আর্থে এক কলামে এ কথা লিখেছেন ফাউন্ডেশন ফর ইকোলজিক্যাল সিকিউরিটির (এফইএস) জ্যেষ্ঠ প্রকল্প ব্যবস্থাপক রঞ্জিত কুমার সাহানি; মতামত তাঁর নিজস্ব।
সাহানি কোডাগু জেলার কুশালনগর ও পোন্নামপেট তালুকে আইইউসিএনের অর্থায়নে চলা সাবাল প্রকল্প (টেকসই কৃষি ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য জোরদার) দেখাশোনা করেন। পশ্চিমঘাট অঞ্চলে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভূমির অবক্ষয় ঠেকানো এর লক্ষ্য।
তিনি লিখেছেন আনেচৌকুরি বন থেকে একটি মৌচাক নিয়ে ১০০ রুপিতে বেচতে যাওয়া জেনু কুরুবা জনগোষ্ঠীর এক মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা। জেনু কুরুবা নামের অর্থই মধু সংগ্রাহক কুরুবা। তাঁরা বুনো মধু, লাইকেন, রিঠা, বুনো গোলমরিচসহ বনজ পণ্য সংগ্রহ করে বহুমুখী সমবায় সমিতিতে (ল্যাম্পস) বিক্রি করেন, আর হনুমান ও হরিণের সতর্ক ডাক শুনে হাতি এড়িয়ে চলেন।
সাহানির মতে, সংরক্ষণনীতি এসব জনগোষ্ঠীকে বনের কেন্দ্র ও বাফার এলাকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে, আর বনের ধারের গ্রামগুলোতে প্রায়ই বিদ্যুৎ ও পাকা রাস্তা নেই। বনের ভেতরে ল্যান্টানা অন্য গাছ বাড়তে দেয় না; প্রতিবছরের আগুনে অন্য গাছ পুড়লেও আগুনসহিষ্ণু এই গুল্ম আরও দ্রুত ছড়ায়। খাবার ফুরিয়ে যাওয়ায় হাতির পাল বারবার কফিবাগানে ঢুকছে। নেচার কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের রেডিও কলারের তথ্য বলছে, সারা বছর ছায়া থাকা হাসানের কফিবাগান কয়েকটি হাতির পালের স্থায়ী আশ্রয় হয়ে উঠেছে; শুষ্ক মৌসুমে অন্য পালগুলো কোডাগু, হাসান ও চিকমাগালুরের বাগানের দিকে যায়।
সমাধান হিসেবে তিনি টেকসই ভূদৃশ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার প্রস্তাব দিয়েছেন: জেনু কুরুবাদের প্রথাগত সতর্কসংকেতের সঙ্গে রেডিও কলারের সতর্কবার্তা ও সামাজিক বন পাহারা মেলানো, হাতির করিডরে থাকা কফিবাগানকে উচ্চ সংরক্ষণমূল্যের বন হিসেবে স্বীকৃতি, ল্যাম্পস চাঙা করা, হাতে ল্যান্টানা তুলে বুনো গোলমরিচ ও রিঠার মতো দেশি গাছ লাগানো, আর বনরক্ষী ও আদিবাসীদের যৌথ নেটওয়ার্কে বন্যপ্রাণীর চলাচলের তথ্য তাৎক্ষণিক ভাগ করা।
ছবি: Rohitjahnavi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ



মন্তব্য
(০)