দেশে এলাচের চাহিদা প্রায় পুরোটাই আমদানিতে মেটে, আর বাজারে ভালো মানের এলাচের কেজি চার থেকে ছয় হাজার টাকা। এর বাণিজ্যিক বাগান গড়ায় দেশে বড় সাফল্য আগে দেখা যায়নি। যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল গ্রামের কৃষক শাহজাহান আলী দীর্ঘ চেষ্টার পর সবুজ এলাচ চাষে আশার আলো দেখছেন।
২০১২ সালে ঢাকার চকবাজারে এলাচের চড়া দাম দেখে তিনি দেশে এর চাষের উপায় খুঁজতে শুরু করেন। প্রথমে দেশের নানা প্রান্ত থেকে বুনো জাতের চারা আনলেও সেগুলো সুগন্ধহীন ছিল। পরে আফ্রিকা থেকে আনা ছোট সবুজ জাতের এলাচের চারা দিয়ে ২০১৬ সালে মূল প্রকল্প শুরু করেন।
২০১৯ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ে তাঁর পুরো বাগান বিধ্বস্ত হয়, এতে কয়েক বছর পিছিয়ে যান। ২০২০ সালের শেষ দিকে মেহগনি গাছের ছায়ায় নতুন করে এলাচ লাগান। এখন গাছগুলোর বয়স সাড়ে তিন বছর পেরিয়েছে; গোড়া থেকে কচুর লতির মতো লম্বা থোকা বেরিয়ে ফুল ফুটছে, ছোট গুটিও ধরছে। গুটি পরিপক্ব হতে লাগে প্রায় ১২০ দিন।
শাহজাহান আলী জানান, রোপণের দুই থেকে আড়াই বছর পর গাছে ফুল আসার শক্তি তৈরি হয়, তৃতীয় বছরে সামান্য ফলন আসে, তারপর ধীরে ধীরে বাড়ে। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ থেকে বছরে শুকনা অবস্থায় ২০০ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত এলাচ পাওয়া সম্ভব, আর গাছ ২০ বছর পর্যন্ত ফলন দিতে পারে।
ছবি: B.navez / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: দিনাজপুর টিভি




মন্তব্য
(০)