জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ধাক্কা লেগেছে জামালপুরের রোপা আমন চাষে। মৌসুমের মাঝপথে বৃষ্টি কম হওয়ায় উঁচু (কান্দা) জমির আমনখেতে নিয়মিত সেচ দিতে হচ্ছে, কিন্তু হঠাৎ ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেচের খরচ বেড়েছে। অনেক কৃষক প্রয়োজনমতো সেচ দিতে না পারায় কোথাও কোথাও খেতের মাটি ফেটে যাচ্ছে।
জেলার ৬৮টি ইউনিয়ন ও ৮টি পৌরসভায় চলতি আমন মৌসুমে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন এবং প্রায় ৫ হাজার হেক্টরে শাকসবজিসহ অন্যান্য ফসল হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আলম শরীফ খান এ হিসাব নিশ্চিত করেছেন।
উঁচু জমির অনেক কৃষক ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। বাড়তি খরচ সামলাতে কেউ সেচের পরিমাণ কমিয়েছেন, কোথাও সেচ বন্ধ থাকায় জমিতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, সময়মতো সেচ না পেলে ধানের ফলন কমবে।
পলবান্ধা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল রহিম মিয়া ও ইব্রাহীম মন্ডল জানান, ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচের খরচ আগের চেয়ে বেড়েছে; আমনের পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই বাড়তি ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সিরাজাবাদ এলাকার কৃষক কদ্দুছ মিয়া ও আব্দুল বারেক বলেন, প্রয়োজনমতো পানি দিতে না পেরে তাঁরা এখন বৃষ্টির অপেক্ষায় আছেন।
কৃষকেরা জানান, সেচের পাশাপাশি সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও অন্যান্য উপকরণের খরচও বেড়েছে; জ্বালানির দাম বাড়ায় সার ও উপকরণ পরিবহনেও বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।
তাঁদের ভয়, উৎপাদন খরচ যে হারে বাড়ছে, ধানের দাম সে হারে না বাড়লে মৌসুম শেষে লোকসান গুনতে হবে—আর ফলন কমলে খরচ তোলাই কঠিন হবে।
প্রতিবেদন: বিশ্বজিৎ দেব, ঢাকা ট্রিবিউন।
সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)