মৎস্যভান্ডার বলে পরিচিত কিশোরগঞ্জের ইটনার হাওরে ভরা মৌসুমেও পর্যাপ্ত মাছ মিলছে না; মাছের অভাবে জেলেদের আয় কমে গেছে। অথচ ইটনা উপজেলা মৎস্য অফিসের হিসাবে নদ-নদী ও প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছ উৎপাদন ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৯ হাজার ১৪ দশমিক ৮৯ টন থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫-এ ১৩ হাজার ৩৮২ দশমিক ৯৮ এবং ২০২৫-২৬-এ ১৪ হাজার ৫৩৬ দশমিক ৩২ টনে দাঁড়িয়েছে; উন্মুক্ত জলাশয়ে সরকারিভাবে পোনা ছাড়া হয়েছে যথাক্রমে ০.৪৭৫, ০.৫৫ ও ১.০৯ টন।
দপ্তরের হিসাবের সঙ্গে মাঠের চিত্র মিলছে না। ঢাকার যাত্রাবাড়ী আড়তে মাছ সরবরাহকারী নিখিল বর্মন (৬০) ও গোপেশ বর্মন (৩৫) জানান, ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁরা প্রায় ১১ কোটি টাকার মাছ পাঠিয়েছেন, আর চলতি বছরের মে থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত মাত্র ৩ কোটি টাকার—যদিও আগস্ট থেকে অক্টোবরেই সারা বছরের প্রায় অর্ধেক মাছ যাওয়ার কথা। তাঁদের দাবি, সারেং (গলদা) চিংড়ি, ডিমা চিংড়ি, কাজলি, রুই, বাতাসি, বাছা, রিটা ও আইড় আগের তুলনায় ২৫ শতাংশও পাওয়া যাচ্ছে না, আর প্রজাতিভেদে কেজিতে দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।
মৎস্যজীবীদের মতে নিষিদ্ধ জাল, অপরিকল্পিত অবকাঠামো, ডুবুবাঁধ, জলাশয়ের নাব্যতা কমা, কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে হাওরের মৎস্যসম্পদ সংকটে। এক যুগ আগেও বিদেশের বাজারে চাহিদা ছিল হাওরের মিঠাপানির গলদার; এখন সেই চিংড়িসহ নানা প্রজাতি বিলুপ্তির পথে। প্রাকৃতিক মাছের ঘাটতিতে স্থানীয় বাজারে চাষের মাছের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে, দাম যাচ্ছে নিম্নমধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে।
হাওরের মানুষ শুকনো মৌসুমে ধান আর বর্ষায় মাছের ওপর নির্ভরশীল। গত বোরো মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও অকাল বন্যায় বড় ক্ষতির পর বর্ষায় মাছ ধরে তা পুষিয়ে নেওয়ার আশা ছিল, সেটিও পূরণ হয়নি। ইটনা সদরের জেলেপল্লির বিশ্বজিৎ বর্মন (৪৫) বলেন, চার-পাঁচ বছর আগেও দিনে ৫–৬ হাজার টাকার মাছ ধরে বিক্রি করতে পারতেন। জেলে ও স্থানীয়রা নিষিদ্ধ জাল বন্ধ, প্রজনন মৌসুমে কঠোর নজরদারি ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন।
কৃষি সময়ের কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতার প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)