সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় আধুনিক পদ্ধতিতে কার্প বা সাদা মাছের পোনা উৎপাদন করে অন্য মাছচাষিদের সামনে দৃষ্টান্ত গড়েছেন নারী উদ্যোক্তা রেখা রানী মণ্ডল। খলিলনগর ইউনিয়নের বয়ারসিং গ্রামে দুই বিঘা জমিতে তিনি পোনা উৎপাদন করছেন; সংসারের দায়িত্ব সামলেও তিনি এ উদ্যোগ ছাড়েননি।
রেখা রানী বাসসকে বলেন, সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থার (এসইউএস) প্রশিক্ষণের আগে তিনি ঠিকমতো মাছ চাষ করতে পারতেন না; প্রশিক্ষণ শেষে দুই বিঘায় সাদা মাছের পোনা উৎপাদন শুরু করে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন অনেকে তাঁর কাছে পরামর্শ নেন, স্থানীয় চাষিরা তাঁর খামারের পোনা কেনেন; স্বামী মনোরঞ্জন মণ্ডলের সঙ্গে তিনি সংসারের আয়ে যোগ দিচ্ছেন এবং দুই ছেলের পড়ার খরচ জোগাচ্ছেন। তাঁর সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে উপজেলার ৫০-এর বেশি খামারি এসইউএসের প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন; প্রতিবেশী পূজা রানী মণ্ডলও তাঁর পরামর্শে পোনা উৎপাদন শুরু করেছেন।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, আগে পোনা কিনতে যশোরসহ দূরের এলাকায় যেতে হতো; এখন নিজ এলাকায় মানসম্মত পোনা মেলায় সময়, খরচ ও পরিবহনের ঝুঁকি কমেছে, মাছ মরার হারও কমেছে। স্থানীয় তরুণ রেজাউল ইসলাম খামার দেখে একই রকম খামার গড়ার কথা ভাবছেন।
এসইউএসের কৃষি উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. একরামুল হাসান বলেন, প্রকল্পের খামারিদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, ফলে তাঁরা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হচ্ছেন এবং স্থানীয় চাহিদার মানসম্মত পোনা জোগাচ্ছেন। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শেখ ইমান আলী বাসসকে জানান, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহায়তায় বাস্তবায়িত প্রকল্পটি আরও মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বাসসের সাতক্ষীরা প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: বাসস




মন্তব্য
(০)