বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী এই সময়ে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে একসময় দেশি মাছের যে প্রাচুর্য ছিল, এখন তার সিকি ভাগও চোখে পড়ে না। ভরা মৌসুমেও দেশি মাছের সংকটে হতাশ জেলে ও সাধারণ মানুষ; আশানুরূপ মাছ না পেয়ে অনেক জেলে জাল তুলে রেখেছেন।
স্থানীয়দের মতে, প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট, মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার, অবৈধভাবে রেণু-পোনা নিধন এবং কারেন্ট ও দুয়ারি জালের নির্বিচার ব্যবহারে দিন দিন দেশি মাছের উৎপাদন কমছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব—সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া, খরা ও অতিরিক্ত তাপমাত্রায় নদী-খাল-বিলে পর্যাপ্ত পানি না আসায় মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে।
শায়েস্তাগঞ্জের বাসিন্দা আবদুল করিম (৬৮) বলেন, আগে বর্ষা এলেই জাল ফেললে নানা রকম দেশি মাছ পাওয়া যেত; এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলেও মাছ মেলে না। জেলে মো. রহিম মিয়া (৫৫) বলেন, আগে মাছ ধরেই সংসার চলত, এখন মাছ কমে যাওয়ায় জাল ফেলার খরচও ওঠে না।
স্থানীয় মাছ বিক্রেতারা জানান, বাজারে এখন চাষের মাছের সরবরাহই বেশি; দেশি মাছ কম আসায় দামও তুলনামূলক চড়া, ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার চাইলেও নিয়মিত দেশি মাছ কিনতে পারছে না। সচেতন নাগরিকদের মতে, দেশি মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র হিসেবে নদী-খাল-বিল সংরক্ষণ, অবৈধ জাল বন্ধ এবং প্রজনন মৌসুমে কঠোর নজরদারি জরুরি।
স্থানীয় মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশি মাছের উৎপাদন বাড়াতে এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ে প্রজনন ও সংরক্ষণে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে; অবৈধ জালে মাছ ধরার বিরুদ্ধে অভিযান এবং জব্দ করা জাল ধ্বংসের কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
মানবজমিনের শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধির প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: মানবজমিন




মন্তব্য
(০)