সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যায় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বান্দা গ্রামে সমন্বিত কৃষি ও মৎস্য খামার গড়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা রাহুল বিশ্বাস। বাড়ির আঙিনা ও খামারে রঙিন মাছের পোনা উৎপাদন, উন্নত জাতের গলদা-বাগদা চাষ, সবজি ও পশুপাখি পালন নিয়ে তাঁর ‘বিশ্বাস এগ্রো প্রজেক্ট ও মৎস্য হ্যাচারি’ এলাকায় সাড়া ফেলেছে।
কৃষি কলেজের শিক্ষার্থী থাকতেই কৃষিতে টান; দীর্ঘদিন গলদা-বাগদায় সাফল্যের পর অ্যাকুরিয়াম মাছের চাহিদা দেখে দুই বছর আগে অর্নামেন্টাল ফিশে নামেন। গত বছর তিনটি হাউস, আধুনিক পাম্প ও ছয়টি পুকুর নিয়ে গড়া হ্যাচারিতে এখন মলি, মুন্টেল, কমেট, অ্যাঞ্জেল, গাপ্পি, গোল্ডফিশ, কৈ-কার্প, বাটারফ্লাই ও টেট্রাসহ প্রায় ২০ প্রজাতির পোনা হচ্ছে; জাতভেদে জোড়া বা পিস ২০ থেকে ২০০ টাকা। খুলনার খালিশপুর থেকে ঢাকার কাটাবনের বড় ব্যবসায়ীরা নিয়মিত মাছ নেন, দেশের যেকোনো প্রান্তে অক্সিজেন প্যাকেজিংয়ে পাঠানো হয়।
পারিবারিক ১৬ বিঘায় ৯টি পুকুরের আটটিতে আধুনিক প্রযুক্তিতে শুধু পুরুষ (অল-মেল) গলদা ও একটিতে ‘সিপি’ পদ্ধতিতে বাগদা চাষ; ঘেরের আইলে শসা, বরবটি, লাউসহ বিষমুক্ত সবজি; সঙ্গে গরুর প্রজনন কেন্দ্র, বিদেশি জাতের কুকুর পালন ও ছাদে কবুতরের প্রজনন-বিপণন। রাহুল বাসসকে বলেন, সৌখিন মাছের বাজার বছরের ১২ মাসই সচল; খামারে ছয়জন নিয়মিত শ্রমিক, সব খরচ বাদে বছরে প্রায় ১৫–২০ লাখ টাকা নিট মুনাফা।
ডুমুরিয়ার সফল চিংড়িচাষি ও কলেজ শিক্ষক নিত্যানন্দ মণ্ডল বলেন, রঙিন মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও বাণিজ্যিক বিপণনে রাহুলের উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি বেকার যুবকদের জন্য অনুকরণীয়। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান রিগ্যান বাসসকে বলেন, চিংড়িপ্রধান ডুমুরিয়ায় সৌখিন মাছ চাষের ধারণা সম্ভাবনাময়, আর পেশাদারিত্ব ও আধুনিক প্রযুক্তিতে অল-মেল গলদা ও রঙিন মাছের সমন্বিত চাষ প্রশংসনীয়।
বাসসের খুলনা প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: বাসস




মন্তব্য
(০)