ইসলামে বিয়ে শুধু জীবনসঙ্গী পাওয়ার মাধ্যম নয়; এর মাধ্যমে গড়ে ওঠে পরিবার, দাম্পত্য বন্ধন ও সামাজিক সম্পর্ক। আরটিভি অনলাইনের ধর্ম পাতায় কোরআন ও হাদিসের আলোকে বিয়ের দশটি উপকারিতা তুলে ধরা হয়েছে।
এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো বান্দা বিয়ে করলে সে তার অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ করে, বাকি অর্ধেকের ব্যাপারে তাকে আল্লাহকে ভয় করতে হবে (বাইহাকি, শুআবুল ইমান, ৫৪৮৬)। তিনি আরও বলেছেন, যুবকদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে সে যেন বিয়ে করে, কারণ এটি দৃষ্টি অবনত রাখতে ও লজ্জাস্থান হেফাজতে সহায়ক; আর যার সামর্থ্য নেই তাকে রোজা রাখতে বলা হয়েছে (সহিহ বুখারি)।
কোরআনে দাম্পত্য সম্পর্ককে আল্লাহর নিদর্শন বলা হয়েছে: তিনি মানুষের জন্য তাদের মধ্য থেকেই জীবনসঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তারা প্রশান্তি পায়, এবং তাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া দিয়েছেন (সুরা আর-রুম, ২১)। স্বামী-স্ত্রীকে একে অপরের পোশাক বলা হয়েছে (সুরা আল-বাকারা, ১৮৭); পোশাক যেমন আচ্ছাদন ও সুরক্ষা দেয়, তেমনি দুজন দুজনের নিরাপত্তা, সহযোগিতা ও আস্থার আশ্রয়।
সুরা আন-নুরের ৩২ নম্বর আয়াতে অবিবাহিতদের বিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, তারা দরিদ্র হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত করবেন। লেখায় বলা হয়েছে, এর অর্থ আর্থিক আশঙ্কায় বৈধ বিয়েকে অসম্ভব না ভেবে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা, তবে বিয়ের পর সবার অবস্থার একইভাবে পরিবর্তন হবে এমন নয়। বিয়ের মাধ্যমে বৈধ পরিবার ও বংশধারা প্রতিষ্ঠিত হয় (সুরা আন-নাহল, ৭২)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দুনিয়ার সামগ্রীর মধ্যে নেককার স্ত্রী সর্বোত্তম সম্পদ (সহিহ মুসলিম)। তিনি আরও বলেছেন, মানুষ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটির সওয়াব অব্যাহত থাকে: সদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং নেককার সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে (সহিহ মুসলিম)।
লেখার উপসংহার, ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে পবিত্রতা রক্ষা, পারিবারিক শান্তি, পারস্পরিক সহযোগিতা, সন্তানের সুশিক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
ছবি: Amr Fayez / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
সূত্র: আরটিভি অনলাইন





মন্তব্য
(০)