বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে হৃদ্রোগে, আর তার শীর্ষে ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী জানান, দেশে মৃত্যুর এক নম্বর কারণ ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ। এতে হার্ট অ্যাটাকের মতো জরুরি অবস্থা যেমন আছে, তেমনি ধমনি ধীরে ধীরে সরু হয়ে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি জটিলতাও আছে।
করোনারি ধমনির প্রাচীরে চর্বি ও কোলেস্টেরলের প্লাক জমে রক্তপথ সরু হয়; প্লাক হঠাৎ ফেটে ধমনি বন্ধ করে দিলে হার্ট অ্যাটাক হয়। হৃৎপেশিতে যথেষ্ট রক্ত ও অক্সিজেন না পৌঁছানোর অবস্থাকে ইসকেমিয়া বলে।
হার্ট ফেইলিওর মানে হৃৎপিণ্ড বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়, প্রয়োজনমতো রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা কমে যাওয়া; দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, করোনারি আর্টারি ডিজিজ বা আগের হার্ট অ্যাটাক থেকে এটি হতে পারে। এতে হাঁটতে বা সিঁড়িতে শ্বাসকষ্ট, পা-গোড়ালি ফোলা আর অল্প পরিশ্রমে ক্লান্তি দেখা দেয়; এসবকে বয়সের স্বাভাবিক লক্ষণ ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
অ্যারিদমিয়ায় হৃৎস্পন্দন খুব দ্রুত, খুব ধীর বা এলোমেলো হয়; ঘন ঘন বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা বা জ্ঞান হারালে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ দরকার। হৃৎপিণ্ডের চারটি কপাটিকা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভালভুলার হার্ট ডিজিজ হয়, আর জন্ম থেকে হৃৎপিণ্ডে ছিদ্র বা গঠনগত সমস্যা থাকলে তা জন্মগত হৃদ্রোগ; গুরুতর ক্ষেত্রে শৈশবেই অস্ত্রোপচার লাগে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি লাখে প্রায় ৫৯ জনের মৃত্যুর কারণ ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ এবং প্রায় ৮০ জনের স্ট্রোক। চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান ও তামাক, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি এবং খাবারে বাড়তি লবণ এই ঝুঁকি বাড়ায়।
সূত্র: দিনাজপুর টিভি


মন্তব্য
(০)