নিচু উপত্যকায় পানি জমে বলে ধান চাষের জন্য তা উপযোগী, আবার সেই পানিই ব্যবস্থাপনাকে কঠিন করে: এক জমির আইল বা নির্গমপথ পাশের জমির নিষ্কাশন বদলে দিতে পারে, আর পানি নিয়ন্ত্রণ ভালো হলে জমির দামও বাড়ে। সিজিআইএআরের ক্লাইমেট অ্যাকশন কর্মসূচির আওতায় তৈরি নতুন ১২ ধাপের একটি কাঠামো দেখাচ্ছে, কিছু নির্মাণের আগেই কৃষক ও উপত্যকার অন্য ব্যবহারকারীরা কীভাবে একসঙ্গে পানির পরিকল্পনা করবেন।
কাঠামোটি তৈরি হয়েছে মালি, নাইজার ও নাইজেরিয়ার ২১৮টি উপত্যকায় ১,৭৮৯ জন অংশগ্রহণকারীর সঙ্গে কাজ এবং আফ্রিকারাইস ও সহযোগীদের দুই দশকের ‘স্মার্ট ভ্যালিজ’ গবেষণার ভিত্তিতে। এতে কৃষক, পশুপালক, প্রক্রিয়াজাতকারী, ব্যবসায়ী, জমির মালিক ও বর্গাচাষি সবাই থাকেন; নারী ও তরুণেরাও একই আলোচনায় অংশ নেন।
আইল, নালা, প্রবেশপথ বা নির্গমপথ তৈরির আগে অংশগ্রহণকারীরা মানচিত্রে আঁকেন উপত্যকায় পানি কোন পথে যায় আর সেই জমিতে কার কী দাবি, তারপর জলবায়ু ঝুঁকি ও পরস্পরবিরোধী দাবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। প্রস্তাবিত কাঠামো রঙিন খুঁটি দিয়ে চিহ্নিত করা হয়, স্থানীয় ব্যবহারকারীরাই নির্মাণ করেন, আর কোথায় পানি জমে বা ভালো নিষ্কাশন হয় দেখে নকশা বদলানো হয়। কাঠামো ব্যবহারের নিয়ম এবং কে নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করবেন, তা-ও তাঁরা ঠিক করেন।
দেশভেদে ব্যবস্থা আলাদা। মালিতে ১৩টি সমবায় কৃষকদের প্রক্রিয়াজাতকারী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যুক্ত করে। নাইজারে উপত্যকার ব্যবহারকারীদের অর্ধেকের কিছু বেশি নারী, পরিচালনায় তাঁদের ভূমিকা কেন্দ্রীয়। নাইজেরিয়ার বাণিজ্যিক উপত্যকাগুলোতে মাঠের ধান চাষে নারীরা কম যুক্ত, সেখানে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্যবসা তাঁদের সুযোগ। ব্যবহারকারী কমিটি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করে, আর বহুপক্ষীয় ‘লিভিং ল্যাব’ তাদের জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের সঙ্গে যুক্ত করে।
উৎপাদনের প্রমাণ আগে থেকেই আছে: পশ্চিম আফ্রিকার সাতটি দেশে গবেষণায় দেখা গেছে, উন্নয়ন করা উপত্যকায় ধানের ফলন হেক্টরপ্রতি গড়ে ২.৫ টন থেকে বেড়ে ৪.৮ টন হয়েছে। তবে সব উপত্যকা উপযোগী নয়; মাটি, নিষ্কাশন, শ্রম, জমির মালিকানা, বাজার আর কৃষক সংগঠনের শক্তির ওপর গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে, আর স্মার্ট ভ্যালিজ পূর্ণ সেচ নয়, আংশিক ও পরিবর্তনযোগ্য পানি নিয়ন্ত্রণ দেয়।
নতুন কাঠামোর কার্যকারিতা এখনো প্রমাণের অপেক্ষায়। পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে, কয়েকটি স্থানে বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। প্রতিবেদন চূড়ান্ত হওয়ার সময় তিনটি লিভিং ল্যাবের কোনোটিতে ব্যাংক, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান বা বিমা প্রতিষ্ঠান ছিল না। গবেষকদের মতে, সফলতা শুধু ফলন বা কত উপত্যকায় পৌঁছানো গেল দিয়ে নয়, কারা অংশ নিচ্ছেন, কার প্রস্তাবে নকশা হচ্ছে আর সুফল কীভাবে ভাগ হচ্ছে, তা দিয়েও মাপতে হবে।
ছবি: আফ্রিকারাইস
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)




মন্তব্য
(০)