অ্যানহাইড্রাস অ্যামোনিয়া বা বেশি পরিমাণ গোবর-সার দেওয়া ভুট্টাখেতের জন্য উপকারী অণুজীবে তৈরি নতুন বীজ প্রলেপ ইনফ্লেক্ট (INFLECT) বাজারে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান সাউন্ড এগ্রিকালচার (Sound Agriculture)।
সমস্যাটা মাটির ভেতরে। প্রতিষ্ঠানটির কৃষিতত্ত্ব বিভাগের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেফ ডিভান (Jeff Divan) জানান, ভুট্টাকে নাইট্রোজেন দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর দুই উপায় অ্যামোনিয়া ও গোবর-সার, কিন্তু দুটোরই দাম দিতে হয় মাটিকে। অ্যামোনিয়া মাটিকে অম্লীয় করে এবং যেখানে দেওয়া হয় সেখানকার কিছু উপকারী অণুজীব মেরে ফেলে; আর গোবর-সারের নাইট্রোজেন অনেক সময় এমন রূপে আটকে থাকে যে ভুট্টার যখন সবচেয়ে দরকার, তখন গাছ তা নিতে পারে না। ডিভানের ভাষায়, উচ্চ অ্যামোনিয়াম মাটির জীবজগতের জন্য কঠিন পরিবেশ তৈরি করে, অণুজীবের বৈচিত্র্য কমায়, ফলে শিকড় অসমভাবে গজায় ও ফলন কমে।
ইনফ্লেক্ট বপনের সময় প্ল্যান্টার বাক্সে বীজের সঙ্গে গুঁড়া হিসেবে মেশানো হয়। এতে আছে দুই প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া — বাসিলাস সিমপ্লেক্স (Bacillus simplex) ও বাসিলাস সাবটিলিস (Bacillus subtilis) — এবং একটি ছত্রাক, কোনিওকিটা নিভিয়া (Coniochaeta nivea)। উচ্চ অ্যামোনিয়ামের লবণাক্ত ও চাপযুক্ত মাটিতে টিকে থাকার ক্ষমতা দেখে এগুলো বেছে নেওয়া হয়েছে।
ডিভানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ব্যাকটেরিয়া দুটি শিকড় ও অ্যামোনিয়ার মাঝে একটি সুরক্ষা স্তর তৈরি করে শিকড়ের চারপাশের পিএইচ স্থির রাখে এবং শিকড় বাড়তে সাহায্য করে। আর ছত্রাকটি গোবর-সার ও অন্যান্য জটিল যৌগ ভেঙে জৈব নাইট্রোজেনসহ পুষ্টি গাছের কাছে পৌঁছে দেয়।
কয়েক বছর ধরে তৈরি এই পণ্যের এক বছরের বাণিজ্যিক মাত্রার মাঠ পরীক্ষা হয়েছে ইলিনয় (Illinois), ক্যানসাস (Kansas) ও মিসৌরির (Missouri) ১২টি স্থানে। মোট কত একরে পরীক্ষা হয়েছে তা জানানো হয়নি, তবে প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে ভুট্টার ফলন একরপ্রতি গড়ে প্রায় ছয় বুশেল বেড়েছে এবং ৯২ শতাংশ স্থানে ফলন বেড়েছে।
আপাতত ভুট্টাই ইনফ্লেক্টের মূল লক্ষ্য; অন্য ফসলে ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি সাউন্ড এগ্রিকালচারের তৃতীয় পণ্য। আগের দুটি হলো সোর্স (SOURCE), যা মাটির নাইট্রোজেন ও ফসফরাস বেশি কাজে লাগাতে ফসলকে সাহায্য করে, এবং ব্লুপ্রিন্ট (BLUEPRINT), পুষ্টি ও পানি শোষণ বাড়ানোর আরবাসকুলার মাইকোরাইজাল ছত্রাক।
যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ ভুট্টাচাষি যখন গত বছরের তুলনায় খামারের খরচ নিয়ে সমান বা বেশি উদ্বিগ্ন এবং অনেকে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমানোর পথ খুঁজছেন, তখনই পণ্যটি এল। ডিভানের পরামর্শ, উপকারী অণুজীবকে বিদ্যমান সারের ওপর বাড়তি হিসেবে নয়, বরং সার পরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে ধরতে হবে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন জেনিফার মার্সটন।
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ





মন্তব্য
(০)