বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যানসার গবেষণা সংস্থা আইএআরসির নতুন এক গবেষণা বলছে, ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ২৩ লাখ নতুন ক্যানসার, অর্থাৎ মোটের ১২ শতাংশ, হয়েছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও পরজীবীর সংক্রমণ থেকে। খবরটি দিয়েছে ইউরোনিউজ।
সবচেয়ে বড় কারণ হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি, পাকস্থলীর এক ব্যাকটেরিয়া যা প্রায়ই আলসার ঘটায়; এর সঙ্গে যুক্ত ৭ লাখ ৬০ হাজার নতুন ক্যানসার, মোটের ৪ শতাংশ, মূলত পাকস্থলীর। দ্বিতীয় হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভি, আট ধরনের ক্যানসারে ৭ লাখ ৫০ হাজার রোগী, জরায়ুমুখ ক্যানসারের সবগুলোই এর কারণে। এরপর হেপাটাইটিস বি ভাইরাস।
বোঝাটা অসম। সংক্রমণজনিত ক্যানসারের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে। পূর্ব এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি, ৯ লাখ ৯০ হাজার, যা বিশ্বের মোটের ৪২ শতাংশ, মূলত এইচ. পাইলোরি ও হেপাটাইটিস বির কারণে। সাব-সাহারান আফ্রিকায় সব ক্যানসারের এক-চতুর্থাংশই সংক্রমণজনিত, বেশির ভাগ এইচপিভির। সবচেয়ে কম উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও ওশেনিয়ায়।
গবেষণার সহলেখক, আইএআরসির ক্যানসার নজরদারি শাখার বিজ্ঞানী হ্যারিয়েট রামগে বলেন, এই ফলাফল দেখায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ বিশ্বে ক্যানসারের বোঝা কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। লেখকেরা বিদ্যমান টিকার ব্যবহার বাড়ানো, নতুন টিকা তৈরি, পরজীবী নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষা বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন।
জ্যেষ্ঠ সহলেখক গ্যারি ক্লিফোর্ড বলেন, নতুন প্রতিরোধ উপায়ই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন এপস্টাইন-বার ভাইরাস, মানুষের সবচেয়ে সাধারণ ভাইরাসগুলোর একটি, ছয় ধরনের ক্যানসার ঘটাতে পারে, অথচ এর অনুমোদিত টিকা নেই। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনে এন্ডোস্কোপি দিয়ে পাকস্থলীর ক্যানসার শনাক্তের কর্মসূচি আছে, আর ইউরোপের কয়েকটি দেশ কম খরচে এইচ. পাইলোরি শনাক্ত করে চিকিৎসার পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালাচ্ছে।
ছবি: Ed Uthman / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: ইউরোনিউজ




মন্তব্য
(০)