লোনাপানির মাছ ও চিংড়ির ঘেরের সঙ্গে ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার বা রোপণকে একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া সমন্বিত ম্যানগ্রোভ মাছচাষ (ইন্টিগ্রেটেড ম্যানগ্রোভ অ্যাকুয়াকালচার বা আইএমএ)-এর খসড়া নির্দেশিকা ও ব্যবসায়িক মডেল পরখ করেছেন ভারতীয় সুন্দরবনের চাষিরা, পশ্চিমবঙ্গের এক সহ-নকশা কর্মশালায়।
৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কর্মশালাটির আয়োজন করে ওয়ার্ল্ডফিশ ও আন্তর্জাতিক পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট (আইডব্লিউএমআই), সিজিআইএআর ক্লাইমেট অ্যাকশন প্রোগ্রামের আওতায়, সস্য শ্যামলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের সহযোগিতায়। প্রায় ৬০ জন অংশ নেন, যাঁদের প্রায় ৫০ জনই ছয়টি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের চাষি। সেখানে মাছচাষকে লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও ভাঙনের সঙ্গে লড়তে হয়।
খসড়া নির্দেশিকায় আছে জায়গা বাছাই, খামারের নকশা ও ম্যানগ্রোভ প্রজাতি নির্বাচন থেকে শুরু করে পুকুর ব্যবস্থাপনা, মাছের স্বাস্থ্য, আহরণ, হিসাব রাখা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা। মূল নীতি হলো, একটি মডেল সবখানে চাপিয়ে না দিয়ে প্রতিটি জায়গার অবস্থা অনুযায়ী আইএমএ সাজানো। চাষিরা জানতে চান কোন ম্যানগ্রোভ লাগাবেন, অতিরিক্ত বেড়ে ওঠা গাছ কীভাবে সামলাবেন, কোন মাছ ও চিংড়ি ছাড়বেন এবং উৎপাদন না কমিয়ে ঘেরের কতটা জায়গা ম্যানগ্রোভকে দেওয়া যায়। মাটি ও পানির মান পর্যবেক্ষণ নিয়েও আলোচনা হয়।
চাষিদের সামনে তিনটি পথ রাখা হয়: বিদ্যমান সিলভোফিশারি বা আইএমএ ঘেরের মানোন্নয়ন, সাধারণ লোনাপানির ঘেরকে ম্যানগ্রোভযুক্ত ঘেরে রূপান্তর, আর জায়গা অনুকূল হলে আইএমএ-র সঙ্গে ফসল বা উদ্যান চাষ। তাঁদের মতামত প্রতিটি মডেলের খরচ, শ্রম, ঝুঁকি ও বাজারে প্রবেশের বিশ্লেষণে কাজে লাগানো হবে।
ম্যানগ্রোভ গাছ ও মাটিতে কার্বন জমা রাখে বলে চাষিদের কার্বন হিসাব এবং পরিমাপ, প্রতিবেদন ও যাচাই (এমআরভি) পদ্ধতির সঙ্গেও পরিচয় করানো হয়। তবে আয়োজকেরা জোর দিয়ে বলেছেন, কার্বন অর্থায়ন নিশ্চিত আয় নয়; এটি নির্ভর করবে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি, যোগ্যতা, স্বাধীন যাচাই, সনদ ও বাজার পরিস্থিতির ওপর। ছোট খামারগুলোকে একত্র করলে কিছু খরচ কমতে পারে, তবে তা আরও যাচাই দরকার।
কর্মশালা থেকে চূড়ান্ত কোনো মডেল আসেনি। পরবর্তী ধাপে সুপারিশগুলো যুক্ত করা, ভিন্ন ভিন্ন ঘেরে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া, প্রশিক্ষণ উপকরণ তৈরি এবং কার্বন হিসাবের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হবে। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সিজিআইএআর ক্লাইমেট অ্যাকশন।
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)





মন্তব্য
(০)