ভারতের সরকারি বাফার স্টকে ডালের মজুত বেড়ে রেকর্ড ৪৫ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে, যা ৩৫ লাখ টনের নির্ধারিত মানের অনেক ওপরে। খরিফ ফসল বা আসন্ন রবি মৌসুমে ঘাটতি দেখা দিলে এই মজুত দিয়েই দাম বাড়া ঠেকানো হবে বলে রোববার ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানিয়েছে।
এই ভান্ডার মূলত গড়ে ওঠে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মূল্য সহায়তা প্রকল্পের (Price Support Scheme, পিএসএস) আওতায় কৃষকের কাছ থেকে সমবায় সংস্থা নাফেড (Nafed) ও এনসিসিএফ (NCCF)-এর সংগ্রহে, সঙ্গে মূল্য স্থিতিশীলতা তহবিলের কিছু আমদানি। মজুতে আছে প্রায় ১৯.৫ লাখ টন ছোলা (চানা), ১০ লাখ টন অড়হর (তুর), ৮.৮ লাখ টন মুগ ও ৫.৬ লাখ টন মসুর। সূত্রের বরাতে পত্রিকাটি জানায়, দাম চড়া ঠেকাতে এগুলো ধাপে ধাপে খোলাবাজারে বিক্রি ও পিএম-পোষণ, আইসিডিএস ও গণবণ্টন ব্যবস্থার জন্য রাজ্যগুলোকে সরবরাহ করা হবে।
এক কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেন, 'খরিফ এবং আসন্ন রবি বা শীতকালীন ফসলে এল নিনোর প্রভাব স্পষ্ট হলেই ডালের বাজার হস্তক্ষেপ কর্মসূচি কখন শুরু হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।' কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রের উৎপাদন এলাকায় বৃষ্টির ঘাটতিতে ফলন কমে কি না, তা কর্মকর্তারা নজরে রাখছেন। ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অড়হর, বিউলি (উরদ) ও মুগসহ খরিফ ডালের আবাদ ১ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর, গত বছরের চেয়ে ১.৪২ শতাংশ কম; ফসল কাটা শুরু হবে অক্টোবরের শেষে।
আগস্টে ডালে খুচরা মূল্যস্ফীতি ছিল বছরওয়ারি ৩.৬১ শতাংশ। ভোক্তাবিষয়ক দপ্তরের মূল্য পর্যবেক্ষণ শাখার হিসাবে শনিবার অড়হর, ছোলা ও বিউলির গড় খুচরা দাম ছিল কেজিপ্রতি যথাক্রমে ১২৩.৪৩, ৮৮.২৩ ও ১২২.৬৩ রুপি—গত বছরের চেয়ে ৭.১৯, ০.৭৯ ও ৭.৪২ শতাংশ বেশি। কর্মকর্তাদের মতে, আমদানি নীতি স্থিতিশীল থাকায় দামে অস্বাভাবিক লাফ হয়নি।
অড়হর ও বিউলির শুল্কমুক্ত আমদানি ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে; হলুদ মটরে ৩০ শতাংশ শুল্ক ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শেষ পর্যন্ত থাকবে, মসুরে শুল্ক ১০ শতাংশ। ভারত তার বার্ষিক ডালের চাহিদার প্রায় ১৮–২০ শতাংশ কানাডা, রাশিয়া, ব্রাজিল, মিয়ানমার ও আফ্রিকা থেকে আমদানি করে।
পিএসএসের নিয়মে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো ডাল ও তেলবীজের উৎপাদনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ সংগ্রহ করতে পারে এবং প্রকল্প শেষের নয় মাসের মধ্যে তা ছেড়ে দিতে হয়, যাতে গুদামজাত খরচ ও মান নষ্ট না হয়। ভোক্তাবিষয়ক দপ্তর কৃষি দপ্তরকে অনুরোধ করেছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে কেনা অড়হর ও ছোলার জন্য এই নয় মাসের নিয়ম শিথিল করতে, যাতে খরিফ ও রবির ছবি স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত মজুত ধরে রাখা যায়।
প্রতিবেদনটি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের জন্য লিখেছেন সন্দীপ দাস (Sandip Das)।
সূত্র: Financial Express Agriculture

মন্তব্য
(০)