দেশের ভেতরের আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি আর অনিশ্চিত বৈশ্বিক পণ্যবাজার, দুই দিক থেকেই চাপে আছে ভারতের কৃষি। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) ২০২৬ সালের অক্টোবরের মুদ্রানীতি প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে, যদিও গ্রামীণ অর্থনীতি ফসলের ওপর আগের চেয়ে কম নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। খবরটি দিয়েছে রুরাল ভয়েস।
এবারের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ছিল অসম। দুর্বল জুনের পর ৯ জুলাইয়ের মধ্যে বৃষ্টি সারা দেশে ছড়ায়, জুলাইয়ে বৃষ্টি দীর্ঘমেয়াদি গড়ের চেয়ে ১ শতাংশ বেশি হয়। কিন্তু ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট বৃষ্টি স্বাভাবিকের চেয়ে ১২.৬ শতাংশ কম, সব অঞ্চলেই ঘাটতি। ১ অক্টোবর প্রধান জলাধারগুলোতে পানি ছিল ধারণক্ষমতার ৭১.৮ শতাংশ, যেখানে স্বাভাবিক ৮১.৮ আর গত বছর ছিল ৯০.৩ শতাংশ। ২ অক্টোবর পর্যন্ত খরিফ বপন গত বছরের চেয়ে ১ শতাংশ কম, তবে স্বাভাবিকের চেয়ে ১ শতাংশ বেশি; ধান, আখ ও তুলার জমি কমেছে, ডাল, মোটা দানাশস্য ও তেলবীজের বেড়েছে।
রবি মৌসুমেও কম জলাধার, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা ও সম্ভাব্য এল নিনোর চাপ আসতে পারে। বড় উৎপাদক দেশগুলোর আবহাওয়া বিপর্যয়, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্যনীতি এবং উপকরণ ও জ্বালানির দামও শস্য ও ভোজ্যতেলের বিশ্ববাজারকে অস্থির করছে, যার প্রভাব পড়তে পারে ভারতের কৃষকের পাওয়া দাম, বাণিজ্য ও খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে।
তবে ভরসার জায়গাও আছে। ২০২৫-২৬ সালের তৃতীয় অগ্রিম হিসাবে খাদ্যশস্য উৎপাদন রেকর্ড ৩ হাজার ৭৬৬ লাখ টন, আগের বছরের চেয়ে ৫.৩ শতাংশ বেশি; তুলা ছাড়া সব প্রধান ফসলের উৎপাদন বেড়েছে। উদ্যান ফসলের উৎপাদন ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭৭৮ লাখ টন, ২০২৪-২৫ সালের চেয়ে ১.৯ শতাংশ বেশি। ফসল বৈচিত্র্যে উৎসাহ দিতে সরকার ২০২৬-২৭ খরিফ মৌসুমে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ০.১ থেকে ৮.৮ শতাংশ এবং ২০২৭-২৮ রবি মৌসুমে ১ থেকে ১০.৩ শতাংশ বাড়িয়েছে।
আরবিআইয়ের বিশ্লেষণ বলছে, গ্রামীণ অর্থনীতি এখন বৃষ্টির ধাক্কা সামলাতে বেশি সক্ষম। এক একর পর্যন্ত জমির পরিবারে আয়ের ৫৫ শতাংশের বেশি আসে মজুরি থেকে, ফসল ও পশুপালন মিলিয়ে প্রায় ৩৬ শতাংশ। যে বছর বৃষ্টির ঘাটতি ৭ শতাংশ ছাড়ায়, সে বছর গ্রামীণ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালক হয়ে ওঠে কৃষিবহির্ভূত কাজ। ১৯৯৪-৯৫ থেকে ২০২৫-২৬ সালের তথ্যে দেখা যায়, বৃষ্টির ঘাটতি কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতের প্রবৃদ্ধি কমায়, আর কৃষি প্রবৃদ্ধির ওঠানামার প্রায় ৩৯ শতাংশ বৃষ্টির তারতম্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, সেচের বিস্তার, আবহাওয়া-সহনশীল জাত, কম পানির ফসলে ঝোঁক এবং পশুপালন ও মৎস্যের প্রসার এই নির্ভরতা কমিয়েছে। তবু দুর্বল বর্ষা, এল নিনো ও বৈশ্বিক বাজারের ধাক্কা খাদ্যের জোগান ও দামের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে আছে।
ছবি: Sanyam Bahga / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)