ভারতে ধানের নাড়া পোড়ানোর মৌসুম শুরু হয়েছে, আর এবার তালিকার শীর্ষে পাঞ্জাব নয়, মধ্যপ্রদেশ। ভারতীয় কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইএআরআই) মহাকাশ থেকে কৃষি-বাস্তুতন্ত্র পর্যবেক্ষণ কনসোর্টিয়াম (ক্রিমস) ৬ অক্টোবরের বুলেটিনে জানিয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত সাত রাজ্যে ২৮৭টি জায়গায় ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো হয়েছে। খবরটি দিয়েছেন ডাউন টু আর্থের ভগীরথ।
রাজ্যভিত্তিক হিসাবে মধ্যপ্রদেশে ১১৮, পাঞ্জাবে ৮৮, উত্তরপ্রদেশে ৬৫, রাজস্থানে ১০, হরিয়ানায় ৪, আর দিল্লি ও উত্তরাখণ্ডে একটি করে ঘটনা। শুধু ৬ অক্টোবরেই স্যাটেলাইটে ৩৩টি আগুন ধরা পড়ে, যার ২৪টি মধ্যপ্রদেশে, অর্থাৎ দিনের মোটের ৭৩ শতাংশ। ক্রিমস স্যাটেলাইট রিমোট সেন্সিংয়ের মাধ্যমে সক্রিয় আগুন শনাক্ত করে বুলেটিন ও ড্যাশবোর্ডে তথ্য দেয়; মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশের কিছু অংশ ও উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ে মেঘের কারণে শনাক্তকরণ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
পাঞ্জাবের ৮৮টি ঘটনা এই সময়ে গত সাত বছরে রাজ্যটির সর্বনিম্ন, আর এ মৌসুমে একদিনও সেখানে ঘটনা দুই অঙ্কে পৌঁছায়নি। উল্টো দিকে মধ্যপ্রদেশে পাঁচ দিন দুই অঙ্কের ঘটনা ঘটেছে, আর ১১৮টি ঘটনা এই সময়ে রাজ্যটির সর্বোচ্চ।
ধারাটি নতুন নয়। পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় নাড়া পোড়ানো উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, বাড়ছে মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানে। ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর ছয় রাজ্যে ৩৩ হাজার ২৮টি ঘটনা ঘটে, যার ১৭ হাজার ৬৭টি, অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি, মধ্যপ্রদেশে। উত্তরপ্রদেশে ছিল ৭ হাজার ২৯০, পাঞ্জাবে ৫ হাজার ১১৪, রাজস্থানে ২ হাজার ৮৯০, হরিয়ানায় ৬৬২ আর দিল্লিতে ৫টি।
বিশেষজ্ঞরা মধ্যপ্রদেশের এই বৃদ্ধির পেছনে জলবায়ু সংকট ও বদলে যাওয়া চাষের ধরনকে দেখছেন। তাঁদের মতে, রাজ্যটি পাঞ্জাবের পথ ধরেছে: চরম আবহাওয়ায় অন্য ফসলের ঝুঁকি বেশি বলে কৃষকেরা সয়াবিন, কালো মাষকলাই ও অন্যান্য খরিফ ফসল ছেড়ে ধানের দিকে ঝুঁকছেন, আর ধান কাটার পর জমি পরিষ্কারের সহজ উপায় হিসেবে নাড়ায় আগুন দিচ্ছেন।
ছবি: Neil Palmer (CIAT) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)