উৎসবের মৌসুম শুরুর আগেই ভারতে হু হু করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি তথ্যে গত তিন মাসে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের গড় দাম প্রায় ৮২ শতাংশ বেড়েছে—১ জুনের কেজিপ্রতি ২৯.৫০ রুপি থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরে ৫৩.৭৮ রুপি। একই সময়ে পাইকারি দাম প্রায় দ্বিগুণ: ১ জুনের ২২.৬০ রুপি থেকে ১০ সেপ্টেম্বরে ৪৬.২০ এবং ১৭ সেপ্টেম্বরে ৪৫.৬৮ রুপি।
দাম বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে মহারাষ্ট্র ও কর্নাটক থেকে জোগান কমাকে দায়ী করা হচ্ছে; প্রধান উৎপাদক মহারাষ্ট্রে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের উৎপাদনে ঘাটতি হয়েছে, কর্নাটক থেকেও কম পেঁয়াজ আসছে, আর নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসতে দেরি হচ্ছে। পুরোনো ফসলের মজুত কমার সঙ্গে নতুন ফসলের জোগান পর্যাপ্ত না হওয়ায় সাময়িক সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পাইকারি ও খুচরা—দুই বাজারেই।
আগস্ট-সেপ্টেম্বরে সাধারণত পেঁয়াজের দামে চাপ থাকে, কারণ এ সময় পুরোনো মজুত ফুরিয়ে আসে এবং উৎসবের চাহিদা বাড়ে; রাখিবন্ধন ও গণেশ উৎসবে চাহিদা বেড়েছে এবং সামনে আরও উৎসব থাকায় চাপ বজায় থাকতে পারে। বৃষ্টি হলে পরিবহণ ও সরবরাহে সমস্যা দামে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নতুন খরিফ ফসল পর্যাপ্ত পরিমাণে বাজারে এলে জোগানের চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার কম দামে সংগ্রহ করা বাফার স্টক থেকে পেঁয়াজ ছেড়ে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কেজি ৩৫ রুপির মতো দামে বিক্রি করতে পারে, আর দেশীয় জোগান কমলে রপ্তানি শুল্ক বা অন্য নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপে রপ্তানিতে বিধিনিষেধ দিতে পারে।
বাজারদর বৃদ্ধি ও নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাব সাধারণ পরিবারের মাসিক খাদ্য খরচে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারত রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে গেলে বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর পেঁয়াজ বাজারে তার প্রভাব পড়ার নজির আগেও রয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা





মন্তব্য
(০)