ভারতের কৃষক সংগঠন অল ইন্ডিয়া কিষান সভা (AIKS) কেন্দ্রীয় সরকার এবং জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের সরকারকে আপেলের বাজারে এখনই হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি সতর্ক করেছে, ফসল তোলার ভরা মৌসুমে দাম অনেক পড়ে গেছে, আর আসন্ন বাণিজ্য চুক্তিগুলোয় আমদানি আরও বাড়বে।
সংগঠনের হিসাবে, কাশ্মীরের বাজারে ১৫-১৬ কেজির একটি কার্টন এখন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭০০ থেকে ১,০০০ রুপিতে, কয়েক সপ্তাহ আগেও যা ছিল ১,১০০ থেকে ১,৭০০ রুপি; অর্থাৎ চাষি পাচ্ছেন কেজিতে মোটামুটি ৪৪ থেকে ৬৭ রুপি। উপত্যকায় বছরে প্রায় ২১ লাখ টন আপেল হয়, যা ভারতের মোট উৎপাদনের ৭০ শতাংশের বেশি। কিন্তু নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের হিমাগার আছে মাত্র প্রায় ২ লাখ ৯২ হাজার টনের, অথচ দরকার প্রায় ৬ লাখ টনের; তাই ছোট চাষিদের ফল তোলার দিনই বিক্রি করতে হয়।
২০১৯ সাল থেকে যে বাজার হস্তক্ষেপ প্রকল্পে নাফেড কাশ্মীরে এ, বি ও সি গ্রেডের আপেল কেজিপ্রতি ৬০, ৪৪ ও ২৪ রুপিতে কিনত, তা আর চালু হয়নি। হিমাচলে এবার ফলন প্রায় ২ কোটি বাক্স, গত বছর ছিল প্রায় সাড়ে ৩ কোটি; বাছাই-বাদ আপেলের সহায়ক দাম মাত্র ১২ রুপি, আগের মৌসুমের পাওনাও বাকি। জম্মু-কাশ্মীরে উদ্যানফসলের বিমা কখনো চালু হয়নি; ২০২৬ সালের জুনে বিমা কোম্পানিগুলো ৩০ শতাংশের বেশি প্রিমিয়াম চাওয়ায় দরপত্র আবার বাতিল হয়।
২০ অক্টোবর কার্যকর হতে যাওয়া ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে ৩২,৫০০ টনের কোটায় (পরে ৪৫,০০০ টন) নিউজিল্যান্ডের আপেলে শুল্ক ৫০ থেকে ২৫ শতাংশে নামবে, আমদানি হবে এপ্রিল থেকে আগস্টে, ঠিক যখন ভারতের চাষিরা হিমাগারের আপেল বিক্রি করেন। সংগঠনটি ইইউর সঙ্গে চুক্তি (৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টনের কোটায় ২০ শতাংশ শুল্ক) ও মার্কিন আপেলে ২৫ শতাংশ শুল্কের কোটার কথাও বলেছে। সভাপতি রাজন ক্ষীরসাগর বলেন, ‘২০ অক্টোবরের আগে বাজার হস্তক্ষেপ প্রকল্প ঘোষণা না হলে আপেল অঞ্চল রাস্তায় নামবে।’
তাদের দাবি: এ, বি ও সি গ্রেডে কেজিপ্রতি ৯০, ৬৫ ও ৫০ রুপিতে প্রকল্প চালু, সুদসহ বকেয়া পরিশোধ, সি২ খরচের সঙ্গে ৫০ শতাংশ যোগ করে আইনি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য, তিন বাণিজ্য চুক্তি থেকে আপেল বাদ, আমদানি শুল্ক ১০০ শতাংশ, সরকারি ও সমবায় হিমাগার, সরকারি অর্থে ফসল বিমা এবং আগস্টের শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাগানের জন্য ত্রাণ। ১৯ অক্টোবর সারা ভারতে আপেলচাষি প্রতিবাদ দিবস পালনের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।
প্রতিবেদনটি রুরাল ভয়েসের জন্য লিখেছেন অজিত সিং।
ছবি: Revoshots / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)