ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কায় গঙ্গা নদীতে ভারতীয় প্রধান কার্পজাতীয় মাছের (রুই, কাতলা, মৃগেল জাতীয়) ৩০ হাজার পোনা ছেড়েছে ব্যারাকপুরের আইসিএআর-কেন্দ্রীয় অভ্যন্তরীণ মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান (সিফরি)। ২৮ সেপ্টেম্বর জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের ফারাক্কা ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ, এনটিপিসি ফারাক্কা এবং ফারাক্কার কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (সিআইএসএফ) সঙ্গে যৌথভাবে এই ‘ফিশ র্যাঞ্চিং’ কর্মসূচি হয়।
কর্মসূচির লক্ষ্য দেশি মাছের বৈচিত্র্য বাড়ানো, জলজ জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার এবং নদীতে টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা, যা ভারতের নির্মল গঙ্গা জাতীয় মিশনের লক্ষ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। গঙ্গার ওপর নির্ভরশীল ২০ জনের বেশি জেলে এতে অংশ নেন। প্রতিষ্ঠানটির মতে, নদীর জীববৈচিত্র্য টেকসইভাবে ফেরাতে হলে তা জেলেদের জীবিকা ও জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
সিফরির পরিচালক ড. প্রদীপ দে বলেন, গঙ্গার জীববৈচিত্র্য রক্ষাকে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ থেকে টেকসই, বিজ্ঞানভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। তাঁর মতে, গঙ্গা শুধু একটি নদী নয়, একটি জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র, যার স্বাস্থ্য জলজ জীববৈচিত্র্য, মাছ এবং লাখো মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িত। বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, আবাসস্থল সংরক্ষণ ও জনগণের অংশগ্রহণ থাকলে পোনা ছাড়া দেশি মাছের সংখ্যা ফেরানোর গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে।
অতিথিরা প্রতিষ্ঠানের হ্যাচারি ঘুরে দেখেন, যেখানে এফআরপি কার্প হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদন ও নদীতে ছাড়ার জন্য পোনা পরিচর্যার কাজ তাঁদের বুঝিয়ে বলা হয়। বক্তারা নদীর মৎস্যসম্পদ টিকিয়ে রাখতে গাঙ্গেয় দেশি প্রজাতির বৈজ্ঞানিক প্রজনন, পোনা উৎপাদন ও মজুতের ওপর জোর দেন।
ফারাক্কা ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ, এনটিপিসি ও সিআইএসএফের প্রতিনিধিরা এলাকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ পরিকল্পনার আওতায় এমন উদ্যোগে ভবিষ্যতেও সহায়তার কথা জানান।
ছবি: Debmalyap / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: আইসিএআর





মন্তব্য
(০)