জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ২২ সেপ্টেম্বর রান্নার দূষিত জ্বালানি নিয়ে প্রথমবারের মতো উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক হয়েছে, আয়োজক আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ), নরওয়ে ও কেনিয়া। রান্নার কারণে ঘরের বায়ুদূষণে বিশ্বে বছরে আনুমানিক ২৫ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু হয়; আফ্রিকায়, যেখানে প্রতি পাঁচজনের চারজন খোলা আগুন বা সাধারণ চুলায় রাঁধেন, নারী ও শিশুদের অকালমৃত্যুর এটি দ্বিতীয় প্রধান কারণ।
সাধারণ চুলায় কাঠকয়লা, লাকড়ি, কয়লা, কেরোসিন ও ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ালে গ্রিনহাউস গ্যাসও নির্গত হয়, আর বন থেকে কাঠ এলে কার্বন শোষণের আধারও কমে। আইইএর হিসাবে এলপিজি ও বৈদ্যুতিক চুলার মতো পরিচ্ছন্ন বিকল্পে গেলে মিথেন কমা ও বন বাঁচার হিসাব ধরে ২০৩০ সালের মধ্যে নিট ১৫০ কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড-সমতুল্য নিঃসরণ কমবে।
২০২৪ সালে প্যারিসে আফ্রিকার পরিচ্ছন্ন রান্না সম্মেলনে ২২০ কোটি ডলারের বেশি প্রতিশ্রুতি এসেছিল; আইইএ জানায়, এর এক-তৃতীয়াংশের বেশি ২৮টি দেশের প্রকল্পে খরচ হয়েছে, ১২০টির বেশি নতুন নীতি এসেছে, আর পরিচ্ছন্ন রান্নার সুযোগ পাওয়ার গতি পাঁচ বছরের গড়ের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি। সংস্থার হিসাবে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বিনিয়োগেই ২০৩০ সালের মধ্যে আফ্রিকার সব পরিবারে পরিচ্ছন্ন রান্না পৌঁছানো সম্ভব। আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, আফ্রিকায় এ সমস্যার সমাধান সম্ভব, এবং ইউরোপকে নেতৃত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান।
উন্নত চুলা প্রকল্পের কার্বন ক্রেডিট অর্থের একটি উৎস, তবে এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব প্রকল্প গড়ে জলবায়ু সুফল ১,০০০ শতাংশ বাড়িয়ে দেখায়; ক্লিন কুকিং অ্যালায়েন্স হিসাবের পদ্ধতি কড়া করার চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন লটি লিম্ব।
ছবি: MUCUNGUZI Jr ANOLD / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ইউরোনিউজ





মন্তব্য
(০)