তাপমাত্রা বাড়ায় শুধু ফসল নয়, দুধ ও ডিমের মানেও প্রভাব পড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা ফুডনেভিগেটরকে বলেছেন, দুগ্ধ ও ডিম শিল্পে এর প্রভাব এখন পর্যন্ত সীমিত।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্যে, গরমে কষ্ট পাওয়া পশুর দুধে প্রায়ই প্রোটিন ও চর্বি কম থাকে। এ বছরের শুরুর দিকে ইউরোপের তাপপ্রবাহে তা দেখা গেছে। ইউরোপিয়ান হুই প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন ও ইউরোপিয়ান ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব আলেক্সান্ডার আন্তন বলেন, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহের দিন ও সপ্তাহগুলোতে দুধের কঠিন উপাদান লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছিল।
তবে গরম অল্প সময় স্থায়ী ছিল বলে দুগ্ধ শিল্পে প্রভাব ছিল 'প্রায় নগণ্য', বলেন আন্তন। পুষ্টিমান স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই ছিল, দুধের চাহিদাও কমেনি। দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে দুধের কঠিন উপাদান বরং বাড়ছে, আর চর্বি ও প্রোটিন পাল, খাদ্য, খামার ব্যবস্থাপনা, জাত ও ঋতুর মতো আরও অনেক কারণে ওঠানামা করে।
এফএও ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলছে, গরমে কষ্ট পাওয়া মুরগি পাতলা খোসার ও বদলে যাওয়া কুসুমের ডিম পাড়তে পারে। এফএওর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ মনিকা তোথোভা ব্যাখ্যা করেন, কুসুমের মান বদলানো মানে এর ঘনত্ব, রং, আকার বা গঠনে পরিবর্তন, কারণ গরম মুরগির শরীরে ডিমে পুষ্টি জমার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। পাতলা খোসার ডিম পরিবহন, নাড়াচাড়া ও সংরক্ষণে বেশি ভাঙে। তবে তাঁর ভাষায়, এর মানে এই নয় যে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ ডিম বিক্রির অযোগ্য হয়ে পড়ে।
তোথোভা বলেন, অনেক অঞ্চলের খামারিরা প্রতিবছরই গরম সামলান এবং মৌসুমি উৎপাদন কমাকে আগেই হিসাবে রাখেন; বড় খামারগুলো ভালো বায়ু চলাচল, শীতলীকরণ ব্যবস্থা, কোথাও কোথাও নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার ঘর ব্যবহার করে। তবে অভিযোজনেরও সীমা আছে: ইউরোপের সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহে মুরগি মারা যাওয়ার খবর এসেছে, কিছু খামারে উৎপাদন কমেছে, মৃত্যুহার ও শীতলীকরণের খরচ বেড়েছে, যদিও কম আক্রান্ত এলাকায় বাড়তি উৎপাদন তা কিছুটা পুষিয়েছে।
তাপমাত্রা যত বাড়বে, পশুর উৎপাদনে ঝুঁকিও তত বাড়বে; ছায়া, বায়ু চলাচল ও শীতলীকরণে খামারির বিনিয়োগ তাই ফলন ও মান দুটোই রক্ষার অংশ হয়ে উঠছে। প্রতিবেদনটি করেছেন অগাস্টাস ব্যামব্রিজ-সাটন।
ছবি: sacratomato_hr / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: FoodNavigator





মন্তব্য
(০)