কানাডার মুরগি খামারিরা দেশটির সরবরাহ ব্যবস্থাপনা (সাপ্লাই ম্যানেজমেন্ট) পদ্ধতিতে জীবন্ত মুরগির একটি নির্ধারিত দাম পান। প্রতিটি আট সপ্তাহের উৎপাদন চক্রের জন্য উৎপাদন খরচের ভিত্তিতে দামটি ঠিক করা হয়। কানাডার পোলট্রি খাত নিয়ে মার্কিন কৃষি বিভাগের বৈদেশিক কৃষি সেবার প্রতিবেদন জানাচ্ছে, এ কারণে খামারির দাম সময়ের সঙ্গে মোটামুটি স্থির থেকেছে, ওঠানামা করেছে মূলত উৎপাদন খরচের সবচেয়ে বড় অংশ খাদ্যের দামের সঙ্গে।
সবচেয়ে বেশি মুরগি উৎপাদনকারী প্রদেশ অন্টারিও, বাজারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তাদের। অন্য প্রদেশগুলোর দাম হিসাবের ভিত্তি অন্টারিওর জীবন্ত মুরগির দাম।
এই নিশ্চয়তা শুধু খামারির জন্য। মুরগির মাংসের পাইকারি ও খুচরা দাম চলে চাহিদা-জোগান এবং কোন অংশ, কোন মান ও কতটা প্রক্রিয়াজাত, তা নিয়ে ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী।
সেই পছন্দও বদলাচ্ছে। কানাডীয়রা দীর্ঘদিন বুকের মাংস ও ডানার মতো সাদা মাংস বেশি পছন্দ করতেন, কিন্তু গত এক দশকে সাদা ও লাল মাংসের চাহিদা প্রায় সমান হয়ে এসেছে। একসময় দোকানে সবচেয়ে সস্তা ছিল রান-উরুর অংশ (লেগ কোয়ার্টার); বিদেশি রান্নার জনপ্রিয়তা আর দামের প্রতি ক্রেতার সতর্কতায় এর চাহিদা বেড়েছে, ২০২২ সালের মূল্যস্ফীতি একে নতুন দামের স্তরে তুলেছে। হাড় ও চামড়া ছাড়া উরুর মাংস, যা লাল মাংসের সবচেয়ে দামি অংশ, এখন বারবিকিউর জন্য বুকের মাংসের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করছে। সামগ্রিকভাবে সবচেয়ে দামি অংশ এখনও হাড়-চামড়া ছাড়া বুকের মাংস, রেস্তোরাঁয় যার ব্যবহার বেশি। শীতের হকি মৌসুমে ডানার চাহিদা বিশেষ করে বাড়ে।
অন্য দেশের পোলট্রি খামারিদের জন্য কানাডার পদ্ধতি একটি উদাহরণ: উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাঁধা নিয়ন্ত্রিত দাম কীভাবে মাংসের বাজারের ওঠানামা থেকে খামারিকে আড়াল করে, অথচ দোকানের দাম বাজারের হাতেই থাকে।
প্রতিবেদনটির সারসংক্ষেপ করেছেন দ্য পোলট্রি সাইটের মেলানি এপ।
ছবি: jlastras / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: The Poultry Site





মন্তব্য
(০)