নরওয়ের রাজধানী অসলোর ঠিক উত্তরে গার্ডারমোয়েন (Gardermoen) এলাকার একটি উল্লম্ব খামারে বীজ বোনা থেকে প্যাকেট করা পর্যন্ত কোনো মানুষের হাত না লাগিয়েই লেটুস ও ভেষজ পাতা উৎপাদন হচ্ছে। পুরো রোবট ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাটি তৈরি হয়েছে নরওয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিনটেফের (SINTEF) সঙ্গে মিলে। পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, এর পাশাপাশি প্যাকেজিংয়ে আনা একটি পরিবর্তনে সালাদপাতা টাটকা থাকার সময় সাধারণ ২ থেকে ৪ সপ্তাহ থেকে বেড়ে প্রায় ১২ সপ্তাহ হয়েছে।
খামারটি চালায় হিমেলগ্রন্ট এএস (Himmelgrønt AS), যার পেছনে আছে নরওয়ের মুদি দোকানের চেইন কুপ নর্গে (Coop Norge) এবং কৃষিপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আভিসোমো (Avisomo)। রোবট ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার প্রকৌশল দিয়েছেন সিনটেফের গবেষক অটার বাকোস (Ottar Bakås), প্রকল্পের শুরুর দিকে ছিলেন আলেক্সান্ডার লিলিয়েনশোল্ড (Aleksander Lillienskiold)। গাছ জন্মায় হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে: মাটির বদলে শিকড় থাকে পুষ্টিমেশানো প্রবহমান পানিতে, থরে থরে সাজানো তাকে, আর ভবনের আলো, বাতাস ও পানি নিয়ন্ত্রিত হয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে।
প্রকল্পটির বিশেষত্ব হলো কাজের কতটা অংশ যন্ত্রের হাতে গেছে। চারা রোপণ, ফসল তোলা ও প্যাকেট করার শ্রমিক খরচের কারণেই বহু উল্লম্ব খামার লাভের মুখ দেখে না। গার্ডারমোয়েনে রোবটই বীজ বোনে, ট্রে সরায়, ফসল তোলে ও প্যাকেট করে; কোনো ধাপে হাতের কাজ নেই। সবচেয়ে দ্রুত বাড়ে এমন সালাদের জাত বীজ বোনার দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই তোলার উপযোগী হয়।
বাকোস বলেছেন, এই ব্যবস্থায় সারা বছর উৎপাদন সম্ভব, ফলে নরওয়ের দীর্ঘ শীতে সালাদপাতা ও ভেষজ আমদানির প্রয়োজন কমে। ফসলে হাত না লাগায় জীবাণু ছড়ানোর একটি সাধারণ পথও বন্ধ হয়, কারণ টাটকা সালাদে খাদ্য-নিরাপত্তার সমস্যার বেশির ভাগই ধরা পড়ে তোলা, ধোয়া বা প্যাকেট করার ধাপে, চাষের পদ্ধতিতে নয়।
কিছু দাবি এখনো যাচাই করা যায় না। প্যাকেজিংয়ে ঠিক কী বদলানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলো তা জানায়নি; বিদ্যুৎ খরচ, কেজিপ্রতি পানি ব্যবহার বা মোট উৎপাদনের হিসাবও প্রকাশ করেনি। তাই আমদানি করা সবজির সঙ্গে খরচ বা পরিবেশগত প্রভাবের তুলনা এখনই সম্ভব নয়। কাটা সালাদপাতার জন্য ১২ সপ্তাহ অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময়; সাধারণ দোকানেও তা টিকলে মুদি দোকানে সবচেয়ে বেশি ফেলে দেওয়া পণ্যগুলোর একটি, পাতাসবজির অপচয় কমবে।
কুপ নর্গে অংশীদার হওয়ায় খামারের উৎপাদন সরাসরি ওই চেইনের দোকানে যাওয়ার পথ তৈরি আছে, যা নতুন উল্লম্ব খামারের জন্য প্রায়ই সবচেয়ে কঠিন ধাপ। প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, ভবনটি বেরি, টমেটো ও শসার মতো অন্য ফসলের জন্যও নকশা করা, তবে কবে নাগাদ, তা বলা হয়নি।
ছবি: Bright Agrotech / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)