হিমালয়ের পাথুরে পাহাড়ি নদীর লাজুক পাখি আইবিসবিল (Ibidorhyncha struthersii) অঞ্চলটি উষ্ণ হলে জলবায়ুর দিক থেকে আরও উপযোগী আবাস পেতে পারে। উত্তর-পশ্চিম হিমালয়ে প্রজাতিটি নিয়ে প্রথম বিস্তারিত জলবায়ুভিত্তিক মূল্যায়নে এ তথ্য মিলেছে। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, জলবায়ু ছবির একটি অংশমাত্র; খনন ও দূষণ পাখিটির নির্ভরতার নদীগুলোকেই নষ্ট করছে।
ভারতের সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ বোর্ডের সহায়তায় শের-ই-কাশ্মীর কৃষিবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (স্কাস্ট) গবেষকেরা আইবিসবিল দেখা যাওয়ার জায়গাগুলোর সঙ্গে জলবায়ুর তথ্য মিলিয়েছেন; ছয়টি জৈব-জলবায়ু চলকসহ কয়েকটি প্রজাতি-বিস্তার মডেল একসঙ্গে চালানো হয়েছে। জার্নাল ফর নেচার কনজারভেশনে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, কাশ্মীর ও লাদাখে পাখিটি কোথায় থাকে, তা ব্যাখ্যায় বার্ষিক গড় তাপমাত্রার আপেক্ষিক গুরুত্ব প্রায় ৬০ শতাংশ। ভবিষ্যতের প্রক্ষেপণে উপযোগী জলবায়ুর এলাকা মোটের ওপর বাড়ছে, বিশেষ করে মাঝারি উচ্চতার নদীপথে।
আইবিসবিল পাথরের ফাঁকে ও নুড়ির নিচে জলজ পোকা ও লার্ভা খায়, আর দ্রুতগামী, প্রায়ই বহুধারায় বিভক্ত নদীর নুড়ির চরে বাসা বাঁধে। আইইউসিএনের তালিকায় এটি ঝুঁকিমুক্ত হিসেবে আছে, তবে ভারতে এর সংখ্যার নিশ্চিত কোনো হিসাব নেই। পাখিটি তার পুরো গোত্র আইবিডোরিনকিডির একমাত্র সদস্য।
গবেষণার সহলেখক, স্কাস্ট-কাশ্মীরের বন্যপ্রাণী বিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী খুরশিদ আহমদ বলেন, "শুধু উপযোগী জলবায়ু যথেষ্ট নয়।" তাঁর দলের স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ে দেখা গেছে, আইবিসবিল বছরের পর বছর একই জায়গায় বাসা বাঁধতে ফেরে; আর গান্দেরবাল জেলায় সিন্ধ নদীর তীরে ব্যাপক বালু ও পাথর উত্তোলনে প্রজননস্থলের মারাত্মক ক্ষতিও নথিভুক্ত হয়েছে। গবেষণায় যুক্ত না থাকা নেচার কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের রোহান মেনজিস বলেন, জলবায়ু উপযোগী হলেই আবাস উপযোগী হয় না।
বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির সাবেক পরিচালক আসাদ রাহমানি বলেন, বাড়ি ও রাস্তা বানাতে নদী থেকে পাথর তোলা, বাড়তে থাকা আবর্জনা ও প্লাস্টিক এবং লোকালয়ের কাছে কাক, চিল ও কুকুর বেড়ে যাওয়া, সবই পাখিটির ডিম ও ছানার জন্য হুমকি। অবস্থা না বদলালে কাঙ্গান এলাকা ও সিন্ধ নদীর অনেক অংশ থেকে আইবিসবিল হারিয়ে যেতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা।
গবেষকেরা বলছেন, সংরক্ষণে প্রজননস্থল রক্ষা, নদীর স্বাস্থ্য বজায় রাখা এবং নদীগুলোর মধ্যে সংযোগ টিকিয়ে রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনে হিমবাহ দ্রুত গলছে, হিমালয়ের নদী দ্রুত গতিপথ বদলাচ্ছে; বাঁধ, পানি সরানো, কৃষি ও নগরায়ণ নদীর পাড় বদলে দিচ্ছে। এসব পরিবর্তন নদীনির্ভর বন্যপ্রাণী এবং উপত্যকার মানুষ, দুইয়ের ওপরই প্রভাব ফেলছে।
ছবি: Tupaia / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: Mongabay India





মন্তব্য
(০)