২০২৬ সালের চরম তাপ দেখিয়ে দিয়েছে, কত দ্রুত ফসল, কাঁচামালের সরবরাহ আর উপকরণের দাম ওলটপালট হতে পারে। তাই খাদ্য প্রস্তুতকারকেরা কোথা থেকে কিনবেন, কতটা মজুত রাখবেন আর কোন উপকরণের ওপর ভরসা করবেন, তা নতুন করে ভাবছেন, জানিয়েছে ফুডনেভিগেটর।
মার্কিন কৃষি বিভাগের বৈদেশিক কৃষি সেবার হিসাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় ভুট্টা উৎপাদক ফ্রান্সে এবার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে ৭০ লাখ টনের নিচে যেতে পারে, যা ৫০ বছরে সর্বনিম্ন। যুক্তরাজ্যে দেশি উৎপাদনের ভরা মৌসুমেও পাইকার, রেস্তোরাঁ ও সুপারমার্কেটকে স্পেন ও নেদারল্যান্ডস থেকে আইসবার্গ লেটুস ও ব্রকলি আনতে হয়েছে, বলেন ইন্টারন্যাশনাল ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রোনাল্ড গুয়েন্ডেল। কিছু এলাকায় ব্রকলির ফলন অর্ধেক হয়েছে, লেটুস, টমেটো ও আলুর পাইকারি দাম বেড়েছে অনেক।
গুয়েন্ডেলের মতে, আবহাওয়ার একটি ঘটনা দ্রুতই ব্যবসার সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়: দোকানের তাক ভরা রাখতে কোম্পানিকে সরবরাহকারী বদলাতে, ভিন্ন মানের পণ্য মেনে নিতে ও বেশি দাম দিতে হয়। টেট অ্যান্ড লাইলের টেকসই উন্নয়ন পরিচালক অ্যানা পিয়ার্স বলেন, এ বছর বন্যা, তাপপ্রবাহ ও দাবানল ফসলের ফলনে আঘাত করেছে, তাই কোম্পানিগুলো মূল কৃষিপণ্য সংগ্রহের পথ আবার যাচাই করবে।
কেরির উত্তর আমেরিকার প্রধান ক্রয় কর্মকর্তা মার্ক ডি শুটার বলেন, কোকো, চিনি, নারকেল, দানাশস্যসহ নানা পণ্যে জলবায়ুর প্রভাব পড়েছে। ভুট্টা ও সয়াবিনের মতো ফসল খাদ্য, পশুখাদ্য ও জৈবজ্বালানি সবখানে যায় বলে একটি ঘটনার ধাক্কা অনেক উপকরণে ছড়িয়ে পড়ে।
ইনস্টিটিউট অব ফুড টেকনোলজিস্টসের প্রধান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্মকর্তা ব্রেন্ডান নিমিরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে কোথায় কোন ফসল ও পশু ভালো হবে এবং রোগ ও পোকা কীভাবে ছড়াবে, তা বদলে যাবে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি উপকরণ তার উৎস পর্যন্ত খুঁজে বের করার সক্ষমতাসহ প্রস্তুতকারকদের মানিয়ে নিতেই হবে।
ছবি: Billy Hathorn / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: FoodNavigator





মন্তব্য
(০)