হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ এবং খাবারে লবণের ব্যবহার কমানোর সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বুধবার বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় হৃদ্রোগ ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত সেমিনারে এসব সুপারিশ আসে বলে জানিয়েছে সমকাল। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘এভরি হার্টবিট ম্যাটার্স’।
মূল প্রবন্ধে ফাউন্ডেশনের এপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী তিনটি সুপারিশ তুলে ধরেন: তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬-এর বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত বাজেট, আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী খাবারে লবণ কমানো। তাঁর মতে, হৃদ্রোগ প্রতিরোধ শুধু ব্যক্তির সচেতনতার ওপর নির্ভর করে না, কার্যকর জনস্বাস্থ্যনীতি ও প্রাথমিক সেবার সক্ষমতাও জরুরি।
ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ফাজিলা-তুন-নেছা মালিক বলেন, বিশ্বে প্রতিবছর হৃদ্রোগে দুই কোটি পাঁচ লাখের বেশি মানুষ মারা যায়, আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরোধ করা সম্ভব। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসাইন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অস্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও তামাকের মতো ঝুঁকি প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্তের ওপর জোর দেন।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরীফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী কর্মস্থল তামাকমুক্ত করা এবং ই-সিগারেট ও নতুন ধরনের নিকোটিনজাত পণ্য নিয়ন্ত্রণের কথা বলেন। প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হৃদ্রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সহজলভ্য করতে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে, আর চিকিৎসক নিয়োগসহ নানা পদক্ষেপে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সভাপতির বক্তব্যে ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খোন্দকার আবদুল আউয়াল রিজভী বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়েই হৃদ্রোগের ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। দিবস উপলক্ষে ফাউন্ডেশন বিনা মূল্যে হৃদ্রোগ পরীক্ষা, পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করে; ঢাকার বাইরে তাদের ৪৫টি সহযোগী সংগঠনও কর্মসূচি পালন করে।
প্রতিবেদনটি সমকাল প্রতিবেদকের।
ছবি: Idhren / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)