আগে যে কাজ অনায়াসে করা যেত, এখন তা করতে গিয়ে অস্বাভাবিকভাবে হাঁপিয়ে ওঠা, সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে বুক ভারী হয়ে আসা কিংবা অল্প পরিশ্রমে বুক ধড়ফড় করা হৃদ্রোগের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে। প্রথম আলোয় লেখা এক নিবন্ধে এমন সতর্কতার কথা বলেছেন চিকিৎসক ডা. শরদিন্দু শেখর রায়।
তাঁর ব্যাখ্যায়, হার্টের রক্তনালিতে ধীরে ধীরে চর্বি ও কোলেস্টেরল জমে নালি সরু হয়। শুরুতে শরীর তা সামলে নেয় বলে স্পষ্ট উপসর্গ না-ও থাকতে পারে। কিন্তু পরিশ্রমের সময় হার্টের অক্সিজেনের চাহিদা বাড়লে সরু নালি দিয়ে যথেষ্ট রক্ত পৌঁছায় না; তখন বুকে চাপ, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দেয়। কখনো নালির চর্বির আস্তরণে হঠাৎ ফাটল ধরে রক্ত জমাট বাঁধলে আকস্মিক হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
উদাহরণ দিয়ে তিনি লিখেছেন, আগে ৩০ মিনিট হাঁটতে যাঁর সমস্যা হতো না, এখন ১০-১৫ মিনিটেই থামতে হলে, কিংবা আগে কয়েক তলা সিঁড়ি উঠতে পারলেও এখন এক-দোতলাতেই বুক ভারী লাগলে তা বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন ধরে নেওয়ার আগে কারণ খুঁজে দেখা উচিত।
যেসব লক্ষণে বিশেষ নজর দিতে বলেছেন: হাঁটা বা সিঁড়ি ভাঙার সময় বুকে চাপ বা অস্বস্তি; অল্প পরিশ্রমে অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট; কাজের ক্ষমতা কমে যাওয়া; অকারণে ক্লান্তি বা দুর্বলতা; মাথা ঝিমঝিম বা ঘোরা; পা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়া; এবং শুয়ে থাকলে শ্বাস নিতে কষ্ট।
তবে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, এসব উপসর্গের প্রতিটিই হৃদ্রোগের কারণে হয় না। ফুসফুসের রোগ, রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, স্থূলতা বা উদ্বেগ থেকেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে; সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরল, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন কিংবা পরিবারে অল্প বয়সে হৃদ্রোগের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বেশি। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে উপসর্গ অনেক সময় স্পষ্ট হয় না, তাই সামান্য উপসর্গেও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
রোগ নির্ণয়ের প্রথম ধাপ রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা: কী সমস্যা, কখন হয়, কতক্ষণ থাকে, পরিশ্রমের সঙ্গে সম্পর্ক আছে কি না, বিশ্রামে কমে কি না। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী ইসিজি ও ইকোকার্ডিওগ্রামের মতো পরীক্ষা করা হয়।
লেখাটি চিকিৎসকের নিজস্ব মত ও পরামর্শ; উপসর্গ দেখা দিলে নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
সূত্র: প্রথম আলো


মন্তব্য
(০)