সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ৫ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

গোবিন্দগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শওকত আলীর প্রায় এক হাজার ঔষধি ও ফলজ গাছের বাগান

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের নাকাইহাট এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শওকত আলী নিজের বাড়িতে প্রায় এক হাজার বিলুপ্তপ্রায় ও দুর্লভ ঔষধি ও ফলজ গাছের বাগান গড়েছেন; বাগানের ওষুধ, ফল ও চারা তিনি বিনামূল্যে বিতরণ করেন।

গোবিন্দগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শওকত আলীর প্রায় এক হাজার ঔষধি ও ফলজ গাছের বাগান
পরিবেশ

গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাইহাট এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শওকত আলী নিজের বসতবাড়ির আশপাশে ও পুকুরপাড়ে প্রায় এক হাজার বিলুপ্তপ্রায় ও দুর্লভ প্রজাতির ঔষধি ও ফলজ গাছের বাগান গড়ে তুলেছেন। ২০১৯ সালের নভেম্বরে ঢাকা ট্রিবিউন ও বার্তা সংস্থা ইউএনবির প্রতিবেদনে তার এই উদ্যোগের কথা উঠে আসে। বাগান থেকে পাওয়া ওষুধ ও ফল তিনি বিনামূল্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করেন। শওকত আলী জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং গাছ থেকে পাওয়া প্রাকৃতিক ওষুধ দিয়ে রোগ নিরাময়ের সুযোগ বাড়ানোই তার লক্ষ্য।

শিক্ষক থেকে ‘বৃক্ষপ্রেমিক শওকত আলী’


ইউএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শওকত আলীর বাড়ি নাকাই ইউনিয়নের শীতলগ্রামে। এলাকার মানুষ তাকে ‘শওকত মাস্টার’ নামে চেনেন। শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার সঙ্গেও যুক্ত। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তার বয়স ছিল নব্বইয়ের কাছাকাছি। মানুষ ও গাছের প্রতি তার ভালোবাসা শৈশব থেকেই। স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে তার সংসার, এবং পরিবারের সদস্যরাও তার কাজে খুশি।

সারা দিন চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি তিনি গাছের যত্ন নেন। বিলুপ্তপ্রায় ও দুর্লভ গাছ গ্রামের অন্য এলাকায় ছড়িয়ে দিতে বিনামূল্যে চারা বিতরণ করেন। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে এসব গাছ চিনিয়ে দেন এবং বিভিন্ন গাছের গুণাগুণ জানান। গাছের প্রতি এই মমতার কারণে এলাকার মানুষ তার নাম দিয়েছেন ‘বৃক্ষপ্রেমিক শওকত আলী’। গাছ নিয়ে কাজের জন্য তিনি বঙ্গবন্ধু পুরস্কারসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একাধিক পুরস্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সন্ধ্যার আগমুহূর্তের আকাশ। ছবি: Arafatpriyanka / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সন্ধ্যার আগমুহূর্তের আকাশ। ছবি: Arafatpriyanka / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

প্রতিবেশীরা যা বলেন


স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল চৌধুরী প্রতিবেদককে বলেন, এলাকার বেশির ভাগ মানুষ নিজের প্রয়োজনে জমিতে ধান ও অন্যান্য ফসল চাষ করে বছরের খাবার জোগাড় করেন, কিন্তু শওকত মাস্টার ব্যতিক্রম। শুধু খাদ্যশস্য না করে মানুষের মঙ্গলের জন্য তিনি নিজের অনেক জমিতে বিরল প্রজাতির ঔষধি গাছ লাগিয়েছেন। মানুষ তার বাগান দেখতে আসেন, আর তাতে তিনিও খুশি হন। রুবেল চৌধুরীর ভাষায়, গাছ দিয়ে কত রকমের ওষুধ তৈরি হয়, তা তারা শওকত আলীর কাছ থেকেই জেনেছেন।

আরেক বাসিন্দা সাহেব উদ্দিন মাস্টার জানান, শওকত আলী মানুষের কল্যাণে চারা বিতরণ করেন, কোনো পয়সা নেন না, গাছের যত্ন কীভাবে নিতে হয় তা শেখান এবং গাছের গুণাগুণ নিয়ে কথা বলেন। শওকত আলীর ছেলে সোহাগ বলেন, তার বাবার মতো মানুষ সমাজে আরও দরকার, তাহলে সবাই ঔষধি গাছের গুণাগুণ সম্পর্কে জানতে পারত।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম ফেরদৌস শওকত আলীর কাজকে সাধুবাদ জানিয়ে সবাইকে তার মতো গাছ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। শওকত আলীর গাছের সংগ্রহ বাড়াতে বিরল গাছের চারা, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি।

অর্জুন গাছ (Terminalia arjuna), ভারতের অনন্তগিরি পাহাড়ে তোলা। ছবি: J.M.Garg / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
অর্জুন গাছ (Terminalia arjuna), ভারতের অনন্তগিরি পাহাড়ে তোলা। ছবি: J.M.Garg / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

বাংলাদেশের ঔষধি গাছ ও লোকজ জ্ঞান


বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, উপমহাদেশে ঔষধি গুণসম্পন্ন উদ্ভিদের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার, যার মধ্যে ৪৫০ থেকে ৫০০টি বাংলাদেশে জন্মায় বা পাওয়া যায় বলে তালিকাভুক্ত হয়েছে। দেশের পরিচিত ঔষধি গাছের মধ্যে আছে বাসক, যার পাতা প্রচলিতভাবে কাশি, হাঁপানি ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ব্যবহার হয়; নিম, যা খোসপাঁচড়া, ফোড়া ও চর্মরোগে ব্যবহৃত হয়; অর্জুন, যার বাকল হৃদ্‌যন্ত্রের টনিক হিসেবে পরিচিত; এ ছাড়া কালমেঘ, থানকুনি, সর্পগন্ধা ও বেল।

বাংলাপিডিয়া আরও উল্লেখ করেছে, গ্রামের কবিরাজি চিকিৎসার মতো লোকজ পদ্ধতির জ্ঞান অনেকটাই মুখে মুখে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে গেছে। আধুনিক চিকিৎসার প্রসার এবং মানুষ দেশি উদ্ভিদ থেকে দূরে সরে যাওয়ায় এই জ্ঞান দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের গাছ চেনানো ও গুণাগুণ জানানোর মধ্য দিয়ে শওকত আলী সেই জ্ঞানই পরের প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে যেকোনো রোগে ভেষজ ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

নিমগাছ (Azadirachta indica)। ছবি: Dinesh Valke / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
নিমগাছ (Azadirachta indica)। ছবি: Dinesh Valke / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা


বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আয়তন ৪৮১.৬৬ বর্গকিলোমিটার, যার এক-চতুর্থাংশ বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। করতোয়া, বাঙালি ও নলুয়া এখানকার প্রধান নদী। নাকাই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের একটি, আর নাকাই হাট উপজেলার পরিচিত হাটগুলোর মধ্যে পড়ে। এখানকার মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি; প্রধান ফসল ধান, পাট, ভুট্টা, আখ, গম, আলু, সরিষা ও সবজি, আর প্রধান ফল আম, কাঁঠাল, লিচু, কলা, নারকেল ও পেঁপে।

ছবি: H. Zell / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন, ইউএনবি (২৪ লাইভ নিউজপেপারে প্রকাশিত), বাংলাপিডিয়া (গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা; উদ্ভিদজগৎ: ঔষধি উদ্ভিদ)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

শাকসবজি

সেচ ছাড়া শুধু শীতের বৃষ্টির পানিতে চাষ: কোন ফসল টেকে, দেখাল ওরেগনের গবেষণা

ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির ড্রাই ফার্মিং প্রোগ্রাম টমেটো, শসা-তরমুজ, সরগাম ও কাটা ফুল পরীক্ষা করছে, যেগুলো গ্রীষ্মে সেচ ছাড়াই মাটিতে জমা শীতের বৃষ্টির পানিতে বাড়ে।

Farms.com৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সৌরসেচ পাম্প, ডিজিটাল মডেল আর ধান নিষেধাজ্ঞা: এশিয়ায় পানি-খাদ্য-জ্বালানির হিসাব মেলানোর চেষ্টা

স্টকহোম বিশ্ব পানি সপ্তাহে গবেষকেরা দেখিয়েছেন, সিমুলেশন মডেল, সৌরসেচ পাম্পের সঠিক মাপ আর গ্রীষ্মকালীন ধানে নিষেধাজ্ঞা কীভাবে পানি, জ্বালানি, খাদ্য ও পরিবেশকে একসঙ্গে সামলাতে সাহায্য করছে।

CGIAR৬ অক্টোবর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সাভারে বছরে ৮৪ হাজার টন চামড়া বর্জ্য, জাতীয় কঠিন বর্জ্য নীতির দাবি

বিল্ড ও দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের নীতি সংলাপে জানানো হয়, সাভার চামড়া শিল্পনগরীর বর্জ্যের ৬০-৭০ শতাংশ ক্রোমিয়ামমুক্ত, যা থেকে জেলাটিন, কোলাজেন, প্রোটিন মিল ও ট্যালো তৈরি করা যায়।

দেশ রূপান্তর৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)