চার বছর আগে জর্জিয়ার হ্যাজেলনাট চাষি শেতে কেমোক্লিদজের (Shete Kemoklidze) বাদাম ফেরত পাঠিয়েছিলেন এক পাইকার। চালানে ধরা পড়েছিল আফলাটক্সিন। বাদাম মাটিতে, খোসায় বা গুদামে স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় থাকলে ছত্রাক থেকে এই বিষাক্ত রাসায়নিক তৈরি হয়, আর তা ধরা পড়লে পুরো চালান খাওয়ার অযোগ্য হয়ে যায়। কেমোক্লিদজে জানান, সব বাদাম ফেলে দিয়ে নষ্ট করতে হয়েছিল, ক্ষতি হয়েছিল প্রায় ২০ হাজার মার্কিন ডলার; কারণ ছিল ভুলভাবে শুকানো।
৩১ বছর বয়সী কেমোক্লিদজে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় কাখেতি অঞ্চলের কভারেলি পৌর এলাকায় ১৭ হেক্টর জমিতে চাষ করেন, যার ১৩ হেক্টরে স্থানীয় আনাক্লিউরি জাতের গাছ পুরো ফলনে আছে। প্রতি হেক্টর থেকে অন্তত তিন টন শুকনো বাদাম পান তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সুইডেন সরকারের অর্থায়নে এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বাস্তবায়নে চলা কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মসূচি এনপার্ড-৪ (ENPARD IV) থেকে তিনি খাদ্যনিরাপত্তা প্রশিক্ষণ নেন এবং সমপরিমাণ অনুদানে একটি হ্যাজেলনাট ড্রায়ার ও তাতে বাদাম তোলার উল্লম্ব এলিভেটর কেনেন। ড্রায়ারের চুল্লি চলে বাদামের খোসায়, যা আগে ছিল নিছক বর্জ্য। ভাঙা দানা থেকে তেল হয়, তেলের খইল গুঁড়া করে হয় আটা। তাঁর কথায়, কিছুই আর ফেলা যায় না।
ঝুঁকিটা বড় কারণ বাজারটাও বড়। জর্জিয়ার জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের হিসাবে ২০২৫ সালে হ্যাজেলনাটসহ বাদাম ছিল দেশটির সপ্তম বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য; ওই বছর ১৮ হাজার টনের বেশি হ্যাজেলনাট রপ্তানি হয়, যার মূল্য ১৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি। আফলাটক্সিন চোখে সহজে ধরা পড়ে না, তাই ঠিকমতো শুকানোই মূল সুরক্ষা।
অনুদান পাওয়া চাষিরা এখন প্রতিবেশীদের বাদামও শুকিয়ে দিচ্ছেন; শত শত টন বাদাম আগে আবহাওয়ার ভরসায় স্তূপ করে রাখা হতো। কেমোক্লিদজে বলেন, এখন তিন বা পাঁচ টনের ছোট চাষিরাও বাদাম শুকাতে আসছেন। এফএও বলছে, খাদ্য অপচয় কমানো একবারের সমাধান নয়; ফসলের পরিচর্যা, দ্রুত সংগ্রহ, শুকানো ও সঠিক সংরক্ষণ, প্রতিটি ধাপ মানলে এই ক্ষতি এড়ানো যায়।
ছবি: ©এফএও / গুরাম সাকভারেলিদজে
সূত্র: এফএও নিউজরুম





মন্তব্য
(০)