নিউজিল্যান্ডের হকস বে অঞ্চলে এ বছর শত শত হেক্টরের আঙুরখেত উপড়ে ফেলা হবে, কিন্তু সেই জমি এরপর কী কাজে লাগবে বা তার দাম কত—কেউ বলতে পারছে না। কারণ পানি: হকস বে রিজিওনাল কাউন্সিলের ‘ট্যাংক প্ল্যান চেঞ্জ’ (TANK Plan Change), যা পানির বরাদ্দ কমাবে, আদালতে ঝুলে থাকায় অঞ্চলে পানির অনুমোদন বছরের পর বছর বন্ধ।
ব্রিজ পা ট্রায়াঙ্গলের কেন্দ্রে অ্যাশ রিজ ওয়াইনারির মালিক লিথ অ্যাশওয়ার্থ (Leith Ashworth) দেখেছেন তাঁর সীমানায় ৩০ হেক্টরের আঙুরগাছ উপড়ে যেতে। বৈচিত্র্যময় জাত আর ওয়াইন ক্লাব, চেখে দেখা, অনুষ্ঠান ও সেলার ডোর বিক্রির মতো দেশীয় বাজারে জোর দিয়ে তাঁর নিজের ব্যবসা বাড়লেও, তাঁর কথায়, ‘প্রতি সপ্তাহে শোনা যায় আরেকটি ওয়াইনারি বন্ধ হচ্ছে বা অঞ্চল ছাড়ছে’। গত সপ্তাহেই ৩০ বছরের পুরোনো সিলেনি ওয়াইনারি বন্ধের ঘোষণা এসেছে।
ট্যাংকের অধীনে অ্যাশ রিজকে তার বর্তমান পানি-বরাদ্দের অর্ধেক প্রস্তাব করা হয়েছে। অ্যাশওয়ার্থ বলেন, সমভূমিতে আঙুরগাছই সবচেয়ে কম পানি খায়, তাই জমি আঙুরচাষেই আটকে থাকে: ‘আঙুরখেত ছাড়া এই জমি আর কিসের উপযুক্ত?’
বাজারও তা-ই বলছে। কলিয়ার্স রুরাল হকস বে-র পরিচালক হ্যাডলি ব্রাউন (Hadley Brown) জানান, সাম্প্রতিক আঙুরখেত বিক্রি হয়েছে রেটেবল মূল্যের অনেক নিচে, চারণভূমির দামের কাছাকাছি; তিনি ভিনার্কির দুটি খেত বিক্রি করেছেন, দুটিই ভিন্ন ব্যবহারের জন্য। মারাইকাকাহোর আওরাঙ্গি রোডে ৩০.৭ হেক্টরের একটি খেত, রেটেবল মূল্য ২৮ লাখ ডলার, জুলাইয়ে বেলিসের নিলামে গেছে ৮ লাখ ডলারে।
ওয়াটিজ ও ম্যাককেইন সরে যাওয়ায় সমভূমির ফসলি জমিও নতুন ব্যবহার খুঁজছে। অ্যাগফার্স্টের উদ্যান-পরামর্শক সারা ম্যাকআর্লি (Sarah McArley) বলেন, আপেল বা কিউইফলের মতো স্থায়ী বাগানে বিনিয়োগের আগে বিনিয়োগকারী প্রথমেই পানির নিশ্চয়তা দেখেন; নতুন স্থায়ী বাগানে বড় পুঁজি লাগে, ফেরত আসতে সময় লাগে বহু বছর—পানির অনিশ্চয়তা যত দিন, উদ্যান খাতে জমির ব্যবহার বদলের সুযোগ তিনি দেখছেন না।
হেরেতাউঙ্গা ভূগর্ভস্থ জলাধার অফুরন্ত ধরে নিয়ে একসময় অবাধে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল; বিজ্ঞান এখন বলছে জলাধার নিঃশেষিত, আর সরবরাহ ও চাহিদার ফারাক বাড়বে। চাষিদের মতে ট্যাংকের কাটছাঁটে বহু ব্যবসা অচল হবে—মডেলিংয়ে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে স্থানীয় অর্থনীতির ক্ষতি ৪০০ কোটি ডলার—যেখানে অঞ্চলের জিডিপির ৮০ শতাংশ আসে এই সমভূমি থেকে। কাউন্সিল চেয়ার সোফি সিয়ার্স (Sophie Siers) বলেন, আঞ্চলিক পানি পরিকল্পনায় ট্যাংকের পাশাপাশি আছে প্রাকৃতিক ও নিয়ন্ত্রিত জলাধার পুনর্ভরণ, শহরের পাইপের ছিদ্র মেরামত ও বর্জ্যপানি পুনর্ব্যবহার। এটি ফার্মার্স উইকলির দুই পর্বের বিশেষ প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব।
সূত্র: Farmers Weekly NZ

মন্তব্য
(০)