নিউজিল্যান্ডের হক'স বে অঞ্চলের হেরেটাউঙ্গা সমভূমিতে ভবিষ্যৎ পানির চাহিদা আর জোগানের ফারাক বাড়ছে, আর তা কমাতে হোয়ানাহোয়ানায় ২২ কোটি ৫০ লাখ নিউজিল্যান্ড ডলারের একটি পানি সংরক্ষণ বাঁধের প্রস্তাব এসেছে, জানিয়েছে ফার্মার্স উইকলি এনজেড। প্রস্তাবের পক্ষে বলছেন ব্রিজ পা এলাকার আঙুরচাষি ও হেরেটাউঙ্গা ওয়াটার স্টোরেজ প্রকল্পের চেয়ারম্যান জ্যান হার্ডিং (Xan Harding)। তাঁর মতে, পানি এই অঞ্চলের অর্থনীতির প্রাণ, আর বাঁধটিকে সবচেয়ে কম খরচে পানির নিশ্চয়তা দিতে হবে, বাণিজ্যিকভাবেও লাভজনক হতে হবে।
সমভূমিতে এখন ১৮ হাজার হেক্টর জমি সেচের আওতায়, আরও ৩ হাজার হেক্টরে নতুন সেচ সম্ভব, আর কিছু জমিতে বরাদ্দ পানি যথেষ্ট নয়। ২০১৬ সালে পানি পরিকল্পনার কাজ করতে গিয়ে হক'স বে আঞ্চলিক কাউন্সিল দেখে, সবাই কাগজে বরাদ্দ পুরো পানি তুললে এনগারুরোরো নদী শুকিয়ে যেতে পারে। তখন সমভূমির পানি পুরোপুরি বরাদ্দ, এমনকি অতিরিক্ত বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়। হার্ডিং বলেন, দশ বছর ধরে সীমিত পানিতে চলতে হচ্ছে, তাতে নতুনরা আসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন আর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্ষয়ে যাচ্ছে।
বেশি মূল্যের ফসলেই সংকট সবচেয়ে বেশি। হার্ডিংয়ের হিসাবে সমভূমি ও নিচু পাহাড়ে ৪ হাজার হেক্টর সেচের আঙুরখেত আছে, যেখানে অন্য নিবিড় চাষে যত পানি লাগে তার এক-তৃতীয়াংশ থেকে অর্ধেক পাওয়া যায়। অনেক আঙুরচাষির জন্য যৌক্তিক পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যবসা গুটিয়ে আনা, নতুন বিনিয়োগ না করা। ওয়াটিস ও ম্যাককেইন সরে যাওয়ায় প্রক্রিয়াজাত হিমায়িত সবজি এখন আর বিকল্প নয়, তবে বেশি পানি পেলে হালকা মাটিতে অন্য সবজি চাষ সম্ভব হতে পারে।
প্রস্তাবিত বাঁধটি হবে ৫৮ মিটার উঁচু পাথরের বাঁধ, ধারণক্ষমতা ২ কোটি ৭০ লাখ ঘনমিটার। শীতের বাড়তি প্রবাহ ধরে রেখে গ্রীষ্মে ব্যবহার করা হবে, পানি ছাড়া হবে সরাসরি এনগারুরোরো নদীর মূল ধারায়, যাতে নদী ও ভূগর্ভস্থ পানি দুটোই উপকৃত হয়; কারামু এলাকায় পানি নিতে একটি পাইপলাইনেরও প্রস্তাব আছে। পাঁচজন ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মালিক প্রকল্প যাচাইয়ে রাজি। রুয়াতানিওয়া প্রকল্পে প্রায় ৩ কোটি ডলার খরচ করেও বাঁধ বানাতে না পারার পর কাউন্সিল এবার প্রকল্পটি পানি ব্যবহারকারীদের হাতে দিয়েছে: ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে এর মালিক হেরেটাউঙ্গা ওয়াটার স্টোরেজ লিমিটেড, যার অংশীদার স্থানীয় মাওরি জনগোষ্ঠীর কর্তৃপক্ষ, সেচ ও শিল্প খাতের পানি ব্যবহারকারী এবং নেপিয়ার ও হেস্টিংস সিটি কাউন্সিল।
প্রকল্প এখন সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায়ে: পছন্দের জায়গা ঠিক হয়েছে, সম্পদ ব্যবহারের অনুমতির আগে নকশা, খরচ ও বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। হার্ডিং জানান, অনুমতির ধাপ পর্যন্ত অর্থ জোগাড় আছে, আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হবে, আর দ্রুত অনুমোদনের আবেদন করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, প্রযুক্তিগতভাবে বাঁধটি বানানো যাবে, অনুমতির পথও আছে।
ছবি: ShakyIsles / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Farmers Weekly NZ





মন্তব্য
(০)