মৌলভীবাজারের বড়লেখায় হাকালুকি হাওরের সবচেয়ে বড় জলমহাল গোটাউরা হাওরখালের (বদ্ধ) ইজারা নিয়ে মৎস্যজীবী সমিতিগুলোর একটি চক্রের কারসাজি ভেস্তে গেছে। প্রথম দফার উন্মুক্ত নিলাম স্থগিত করে পুনঃনিলাম দেওয়ায় সরকারের রাজস্ব বেড়েছে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা।
উচ্চ আদালতে মামলাজনিত জটিলতার কারণে উপজেলা প্রশাসন বিলটি এক বছরের জন্য উন্মুক্ত নিলামে দেয়। মঙ্গলবার হাকালুকি ইউনিয়ন ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত নিলামে ২২টি নিবন্ধিত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি অংশ নেয়। গত বছর জলমহালটি প্রায় দুই কোটি টাকায় ইজারা গেলেও এবার অংশগ্রহণকারীদের গোপন সমঝোতায় সর্বোচ্চ দর ওঠে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
ওই দরে ইজারা দিতে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি উপস্থিত কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রতিবাদের মুখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিলাম স্থগিত করেন। পরে উপজেলা ও জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির পরামর্শে বৃহস্পতিবার দুপুরে আবার উন্মুক্ত নিলাম হয়।
দ্বিতীয় দফার নিলামে অংশ নেয় ৬৬টি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা দর হেঁকে—ভ্যাট ও আয়করসহ প্রায় ৯৮ লাখ টাকার কিছু বেশি—জলমহালটির ইজারা পেয়েছে ভোলারকান্দি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি; সমিতির পক্ষে দর দেন ছায়াদ আহমদ।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া বলেন, প্রথম দিনের দর কাঙ্ক্ষিত না হওয়ায় সরকারি স্বার্থ বিবেচনায় নিলাম স্থগিত করা হয়েছিল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় পুনঃনিলামে ভোলারকান্দি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের সদস্যরা বলছেন, সিন্ডিকেট ভেঙে যাওয়াতেই দ্বিতীয় দফায় ৬৬টি সমিতি নিলামে অংশ নিতে পেরেছে।
প্রতিবেদন: মৌলভীবাজার প্রতিনিধি, সমকাল।
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)