হৃৎপিণ্ড থেকে দাঁত অনেক দূরে, তবু গুরুতর মাড়ির রোগ বা পেরিওডন্টাইটিসের সঙ্গে হৃদ্রোগের জোরালো সম্পর্ক পাওয়া গেছে। প্রথম আলোয় এ বিষয়ে লিখেছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের ডেন্টাল ইউনিটের সহকারী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০২০ সালে ইউরোপিয়ান ফেডারেশন অব পেরিওডন্টোলজি (ইএফপি) ও ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশন (ডব্লিউএইচএফ) এ নিয়ে যৌথ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
নিবন্ধে উদ্ধৃত গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে ৯ হাজার ৭৬০ জনের ওপর প্রথম বড় গবেষণায় দেখা যায়, পেরিওডন্টাইটিস থাকলে করোনারি হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ বেশি; ৫০ বছরের কম বয়সী পুরুষের ক্ষেত্রে তা ৭২ শতাংশ পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের এআরআইসি গবেষণায় মাড়ির রোগ থাকা ব্যক্তিদের কার্ডিওএমবোলিক ও থ্রম্বোটিক স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্বিগুণের বেশি পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরীক্ষা জরিপে গুরুতর মাড়ির রোগে পায়ের রক্তনালির রোগ বা পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজের সম্ভাবনা ২.২ গুণ বেশি দেখা গেছে, কোরিয়ার গবেষণায় তা দ্বিগুণ। তাইওয়ানের জাতীয় তথ্যভান্ডারে ১০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণে পেরিওডন্টাল রোগীদের অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন বা অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশনের ঝুঁকি ৩১ শতাংশ বেশি পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞানীরা এর তিনটি সম্ভাব্য কারণের কথা বলছেন। মাড়ির পকেটে থাকা পোরফাইরোমনাস জিনজিভালিসের মতো ব্যাকটেরিয়া রক্তে মিশে হৃৎপিণ্ডের টিস্যু, ভালভ ও রক্তনালির চর্বির দলায় জমা হতে পারে। মাড়ির দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহে রক্তে সিআরপি, ইন্টারলিউকিন ৬ ও টিএনএফ আলফার মতো প্রদাহ সৃষ্টিকারী রাসায়নিক বাড়ে, যা রক্তনালি শক্ত করে ব্লক তৈরিতে ভূমিকা রাখে। আর ব্যাকটেরিয়ার কিছু প্রোটিন শরীরের প্রোটিনের মতো দেখতে হওয়ায় রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ভুল করে নিজের রক্তনালিকেই আক্রমণ করতে পারে।
হার্ট সুস্থ রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শ: দিনে দুবার টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করুন; মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, মাড়ি ফোলা বা মুখে দুর্গন্ধ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন; বছরে অন্তত দুবার দাঁত ও মাড়ি পরীক্ষা করান। ধূমপান ও পান-জর্দা এড়িয়ে চলুন এবং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
ছবি: Turca2015 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)