অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের প্রাথমিক শিল্প বিভাগের (DPI) ওয়েলক্যাম্প কেন্দ্রে ২০২৬ ও ২০২৭ সালে নতুন মাঠ পরীক্ষায় উত্তরাঞ্চলের শস্যক্ষেতের দুই নাছোড় আগাছা, বার্ষিক রাইঘাস ও প্যারাডক্সা ঘাস, সমন্বিতভাবে দমনের উপায় যাচাই করা হবে। গ্রেইনস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (GRDC) আগাছা ব্যবস্থাপনা উদ্যোগের আওতায় পরীক্ষাটির নেতৃত্বে কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়।
জিআরডিসির আগাছা ব্যবস্থাপক সারা মোরান বলেন, দক্ষিণ কুইন্সল্যান্ড ও উত্তর নিউ সাউথ ওয়েলসে দুটি আগাছাই বড় সমস্যা, মূলত অনেক আগাছানাশক এদের আর দমাতে পারে না বলে। বার্ষিক রাইঘাস অস্ট্রেলিয়ার শস্যচাষিদের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আগাছা বলে ধরা হয়, আর গম ও ছোলায় প্যারাডক্সা ঘাস নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
উদ্যোগটির উত্তরাঞ্চলীয় শাখার প্রধান, কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভাগীরথ চৌহান বলেন, ‘একটিমাত্র ধরনের আগাছানাশকের ওপর নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়।’
ডিপিআইয়ের প্রধান গবেষক ড. মাইকেল উইডেরিক জানান, শুধু আগাছানাশক আলাদাভাবে পরীক্ষা না করে এখানে বোনার সময়, বীজের হার ও আগাছানাশক একসঙ্গে যাচাই হবে। রাইঘাসের জন্য মে মাসের শুরুতে আর চার সপ্তাহ পরে বোনা তুলনা করা হবে, প্রতি বর্গমিটারে ৮০ ও ১২০টি বীজ দিয়ে। চৌহানের মতে, আগাম বোনা গম দেরিতে গজানো আগাছার সঙ্গে ভালো পাল্লা দেয়, তবে কার্যকর অঙ্কুরোদগম-পূর্ব আগাছানাশক থাকলেই; শুধু পরে প্রয়োগের আগাছানাশকে ভরসা করলে দেরিতে বোনাই ভালো, কারণ ততক্ষণে বেশির ভাগ আগাছা গজিয়ে যায়।
২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ পরীক্ষায় অঙ্কুরোদগম-পূর্ব আগাছানাশকের সঙ্গে বীজের হার, সারির দূরত্ব ও ডিস্কের বদলে টাইন দিয়ে বোনার মতো পদ্ধতি মিলিয়ে চারটির তিনটি জায়গায় প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে ভালো ফল মিলেছিল; গমের ফলন বেড়েছিল ২৭ শতাংশ পর্যন্ত, ছোলায় আগাছাও স্পষ্টভাবে কমেছিল।
প্রতিবেদনটি এগ্রোপেজেসে প্রকাশিত জিআরডিসির বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে লেখা।
ছবি: Gideon Pisanty / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: AgroPages





মন্তব্য
(০)