মিষ্টিকুমড়া শীতের ফসল—এই প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে গ্রীষ্ম ও বর্ষায় কুমড়া চাষ করে ভালো ফলন ও দাম পেয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরের কৃষক মানাজির রহমান মামুন। রাধানগর ইউনিয়নের নিস্কানিপুর গ্রামে ২৬ বিঘা জমিতে তিনি ‘বেহুলা’ জাতের মিষ্টিকুমড়া চাষ করেছেন।
মামুন জানান, এ পর্যন্ত তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা, আর খেত থেকে এরই মধ্যে ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার কুমড়া বিক্রি করেছেন। খেতে এখনো অনেক কুমড়া রয়ে গেছে; সেগুলো বিক্রি হলে মৌসুম শেষে আয় আরও কয়েক লাখ টাকা বাড়বে বলে তাঁর আশা।
পাইকারেরা সরাসরি খেত থেকে কুমড়া কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারি বাজারে পাঠাচ্ছেন। কয়েক বছর ধরে কুমড়া চাষ করলেও এবারের গ্রীষ্ম-বর্ষার ভালো দাম ও বাম্পার ফলনই তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে জানান মামুন।
তাঁর খেতে পরিচর্যা, কুমড়া তোলা ও বাজারজাতকরণে প্রতিদিন স্থানীয় ২০ থেকে ৩০ জন শ্রমিক কাজ পাচ্ছেন। অসময়ে গাছে ঝুলে থাকা কুমড়া দেখতে প্রতিদিন আশপাশের কৃষক ও দর্শনার্থীরা খেতে ভিড় করছেন, আর তাঁর দেখাদেখি এলাকার অন্য কৃষকেরাও অসময়ের ফসলে আগ্রহী হচ্ছেন।
ইস্ট-ওয়েস্ট সিড বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের মার্কেটিং ম্যানেজার মোহাম্মদ মুহেব্বুল্লাহ ইবনে হক বলেন, সঠিক জাত নির্বাচন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে ‘বেহুলা’ জাতের মিষ্টিকুমড়া গ্রীষ্মকালেও ভালো ফলন দিতে পারে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শরফ উদ্দিন বলেন, মিষ্টিকুমড়া শুধু শীতেই চাষ করা যায়—এ ধারণা এখন আর সঠিক নয়; উপযুক্ত প্রযুক্তিতে গ্রীষ্ম ও বর্ষায়ও সফল চাষ সম্ভব, যাতে কৃষকের আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাকলাইন হোসেন জানান, কৃষি বিভাগ শুরু থেকেই মামুনকে পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে এবং অসময়ে মিষ্টিকুমড়া চাষে অন্য কৃষকদেরও উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনটি ঢাকা মেইলের চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি মো. ফারুক হোসেনের।
সূত্র: ঢাকা মেইল





মন্তব্য
(০)