গ্লোবাল সাউথ বা দক্ষিণের দেশগুলোর মধ্যে কৃষি গবেষণার সহযোগিতা তখনই টেকে, যখন গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান পাওয়া জ্ঞান নিজের মতো মানিয়ে নেয়, নিজের ব্যবস্থায় গেঁথে নেয় এবং একসময় অন্যকে তা দিতে পারে। সিজিআইএআরের প্রকাশিত এক লেখায় এ যুক্তি দিয়েছেন অ্যালায়েন্স অব বায়োভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিয়াটের অ্যাঞ্জেলিকা বারলিস (Angelica Barlis)। মতামত লেখকের নিজস্ব।
ইক্রিস্যাট আয়োজিত ২০২৬ সালের ড্রাইল্যান্ড কংগ্রেসে জাতিসংঘের দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা দিবস উপলক্ষে একটি আলোচনা সঞ্চালনা করেন বারলিস। সেখানে ছিলেন ব্রাজিলের কৃষি গবেষণা করপোরেশন এমব্রাপার ড. জোসে এদনিলসন মিরান্দা (José Ednilson Miranda), ভারতের আইসিএআর-আইএআরআইয়ের ড. অলকা সিং এবং ইথিওপিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চের ড. দেজেনে আবেরা (Dejene Abera)। সাফল্যের পাশাপাশি কোথায় সহযোগিতা ব্যর্থ হয়েছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
মিরান্দা জানান মালি, বেনিন, চাদ ও বুরকিনা ফাসোর সঙ্গে এমব্রাপার কটন ফোর উদ্যোগের কথা। একই রকম গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়ার কারণে ব্রাজিলের তুলা চাষের অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে, তবে শুধু প্রযুক্তি হস্তান্তর হয়নি: তুলার সঙ্গে প্রধান খাদ্যফসল মিলিয়ে চাষ, জৈব উপকরণ চালু এবং স্থানীয় গবেষণাগার শক্তিশালী করা হয়েছে। নারী কৃষকদের দেওয়া যন্ত্রের নকশাও বদলাতে হয়েছে, কারণ পিঠে শিশু বেঁধে কাজ করা নারীদের জন্য মূল নকশাটি উপযোগী ছিল না।
আবেরা বলেন, নির্দিষ্ট জমির উপযোগী ডিজিটাল সার-পরামর্শ সেবা নিয়ে সিজিআইএআরের সঙ্গে ইথিওপিয়ার কাজ শুরু হয়েছিল যৌথ নকশা দিয়ে, নেতৃত্বে ছিল দেশটির জাতীয় গবেষণা ব্যবস্থা। পরে সেই সক্ষমতা আঞ্চলিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়েছে, আর এখন ইথিওপিয়া রুয়ান্ডার একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। বারলিসের মতে, নেওয়া থেকে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখান থেকে অন্যকে দেওয়া, এই ধাপগুলোই বলে দেয় সক্ষমতা সত্যিই শেকড় গেড়েছে কি না।
অলকা সিং সতর্ক করেন, কতজন প্রশিক্ষণ পেলেন বা কয়টি কর্মশালা হলো, সে হিসাব কাজের ব্যস্ততা দেখায়, পরিবর্তন নয়। আসল মাপকাঠি হলো নতুন দক্ষতা জাতীয় গবেষণা ব্যবস্থায় কাজে লাগছে কি না এবং যৌথভাবে নতুন জাত ছাড়ার মতো ফল আসছে কি না, কারণ কর্মীরা বদলান, প্রকল্পও শেষ হয়। তিনি ও আবেরা বলেন, সীমান্ত পেরোনো কোনো প্রযুক্তি আদৌ গৃহীত হবে কি না, তা ঠিক করে নীতি, প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক বাস্তবতা।
সিজিআইএআরের ক্যাপাসিটি শেয়ারিং অ্যাক্সেলারেটরের জন্য আলোচকেরা একটি সংযোগকারীর ভূমিকার কথা বলেন: কোথায় কোন দক্ষতার চাহিদা ও জোগান আছে তা চিহ্নিত করা, একই সমস্যায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করা এবং ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া মডেল এড়িয়ে স্থানীয় জ্ঞানকে গুরুত্ব দেওয়া। মিরান্দা যোগ করেন, এ সহযোগিতায় ব্রাজিলও লাভবান হয়, অংশীদারদের সঙ্গে মিলে প্রযুক্তি তৈরির মাধ্যমে।
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)





মন্তব্য
(০)