যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির প্রকৌশলীরা জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মিলে এমন একটি রোবট তৈরি করে মাঠে পরীক্ষা করেছেন, যা একটি একটি করে নয়, পুরো থোকা ধরে তাজা ব্লুবেরি তোলে। খোলা মাঠের পরীক্ষায় রোবটটি ৯২ শতাংশ ক্ষেত্রে থোকা ঠিকভাবে ধরতে পেরেছে। ক্ল্যাস্প (CLASP) নামের এ ব্যবস্থার বিবরণ ১৬ সেপ্টেম্বর প্রি-প্রিন্ট সার্ভার আর্কাইভে প্রকাশিত হয়েছে; গবেষণাপত্রটির পিয়ার রিভিউ এখনো শেষ হয়নি।
সমস্যাটা হলো, বাক্সে করে আস্ত বিক্রি হওয়া তাজা ব্লুবেরি খুব যত্নে বেছে বেছে তুলতে হয়, কারণ থেঁতলানো বা কাঁচা ফলের দাম কমে যায়। গাছ ঝাঁকিয়ে ফল ফেলার যন্ত্র মূলত প্রক্রিয়াজাত ফলের জন্য ব্যবহার হয়, তাই তাজা ব্লুবেরি এখনো হাতেই তোলা হয়। খামারে শ্রমিক কমে যাওয়ায় এ কাজের খরচ বাড়ছে।
কীভাবে কাজ করে: দলের তৈরি সফট অ্যাকটিভ রোলিং-ব্যান্ড গ্রিপার দুটি আলাদা মোটরে চলা সিলিকন ফিতা দিয়ে পুরো থোকা জড়িয়ে ধরে ঘোরায় এবং সবগুলো ফলে একসঙ্গে টান দেয়। কৌশলটি একটি মাপা পার্থক্যের ওপর দাঁড়িয়ে: পাকা ব্লুবেরি গড়ে ০.৬৬ নিউটন বলে বোঁটা থেকে খুলে আসে, কাঁচা ফলে লাগে ২.৪৭ নিউটন, প্রায় চার গুণ। দুইয়ের মাঝামাঝি টান দিলে পাকা ফল ওঠে, কাঁচা ফল পাকার জন্য গাছেই থেকে যায়। মোটর কতটা বিদ্যুৎ টানছে তা থেকেই রোবট বল আন্দাজ করে, তাই আলাদা বল-সেন্সর লাগে না।
গ্রিপারটি বসানো ছয় জোড়ের একটি রোবট বাহুতে, যাকে পথ দেখায় দুটি ক্যামেরা: চওড়া কোণের একটি ক্যামেরা থোকা খুঁজে বের করে, আর গ্রিপারের ভেতরের ক্যামেরা শেষ মুহূর্তে বাহুকে ঠিক জায়গায় নেয়। ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চার মৌসুমের ছবিতে প্রশিক্ষিত একটি মেশিন-ভিশন মডেল ঠিক করে থোকাটি পাকা কি না। গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন জর্জিয়া টেকের রোবোটিকস ইনস্টিটিউটের ইউ চেন (Yue Chen); অর্থায়নের একাংশ এসেছে মার্কিন কৃষি বিভাগের খাদ্য ও কৃষি ইনস্টিটিউটের রোবোটিকস অনুদান থেকে।
৯২ শতাংশের হিসাব মাত্র ২৫ বারের চেষ্টার, তাই গবেষকেরা একে সম্ভাব্যতার প্রমাণ বলছেন, নির্ভরযোগ্যতার চূড়ান্ত হিসাব নয়। দুটি ব্যর্থতাই হয়েছে বাহু ঠিক জায়গায় না পৌঁছানোয়, গ্রিপারের দোষে নয়। আলাদাভাবে মাপলে গ্রিপার মিনিটে ৩২টি ফল তুলেছে, যেখানে দক্ষ শ্রমিক তোলেন প্রায় ৫৫টি, অর্থাৎ হাতের গতির প্রায় ৫৮ শতাংশ। যন্ত্রে তোলা ফল দৃঢ়তার পরীক্ষায় প্রায় ১৫ শতাংশ নরম পাওয়া গেছে, যা ছোট নমুনার কারণেও হতে পারে বলে লেখকেরা জানান। এক জায়গা থেকে ক্যামেরা গাছের মাত্র ৪০ শতাংশ থোকা দেখতে পেয়েছে।
কেন জরুরি: বাণিজ্যিক যন্ত্র আসতে সম্ভবত কয়েক বছর লাগবে। তবে লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা থেকে ভারতের হিমাচল প্রদেশ ও জম্মু-কাশ্মীরের পরীক্ষামূলক বাগান পর্যন্ত নতুন ব্লুবেরি অঞ্চলের চাষিরাও একই শ্রমসংকটে আছেন। থোকা ধরে তোলার এই পদ্ধতি পরে অন্য ছোট নরম ফলেও কাজে লাগতে পারে।
ছবি: Darkone / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)