যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান বনসাই রোবোটিকস (Bonsai Robotics) বনসাই ওয়ার্ল্ড নামে একটি সিমুলেশন ব্যবস্থা এনেছে, যা আসল মাঠ ও কাজের পরিবেশকে ত্রিমাত্রিকভাবে তৈরি করে। উদ্দেশ্য, স্বয়ংক্রিয় কৃষিযন্ত্র নতুন মাঠ, ফসল বা কাজে নামার আগেই সেখানে প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা সেরে নেওয়া। এতে নতুন খামারে রোবট বসাতে মাঠে যে দীর্ঘ পরীক্ষা ও সমন্বয় লাগে, তা কমানোর চেষ্টা।
বনসাই ওয়ার্ল্ড প্রতিষ্ঠানটির স্বয়ংক্রিয় চালনার সফটওয়্যার বনসাই ইন্টেলিজেন্সের অংশ; এটি চলে তাদের অ্যামিগা রোবট প্ল্যাটফর্মে এবং অন্য নির্মাতাদের যন্ত্রে, যেগুলো তারা রূপান্তর করে দেয়। এর ভিত্তি ১০ লাখ একরের (৪,০৫,০০০ হেক্টর) বেশি জমি থেকে সংগৃহীত ৫ কোটির বেশি বাস্তব তথ্য-নমুনা, যাতে আছে বিভিন্ন ফসল, ভূমি, আবহাওয়া, আলো, যন্ত্র ও কাজের ধরন।
কাজ শুরু হয় খামারের স্যাটেলাইট ছবি দিয়ে। গুগলের জেমিনি দৃশ্য-ভাষা মডেল সমতল ছবিটিকে একটি কাঠামোবদ্ধ ত্রিমাত্রিক পরিবেশে রূপ দেয়, যেখানে যন্ত্র তার চলার পথ এবং আশপাশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া অনুশীলন করতে পারে। সফটওয়্যারটি মাটির স্তর থেকে দেখা বাস্তবসম্মত ছবিও তৈরি করে, আর যোগ করে মাঠে রোবটের সামনে পড়া পরিস্থিতি: ধুলা, আবর্জনা, পশু, অন্য যানবাহন ও বদলাতে থাকা ভূমি। কাজ করা যন্ত্রগুলো যে তথ্য সংগ্রহ করে, তার পাশাপাশি এতে প্রশিক্ষণের বাড়তি তথ্য তৈরি হয়।
বনসাই রোবোটিকসের প্রধান নির্বাহী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা টাইলার নিডে (Tyler Niday) বলেন, "আমরা যে পরিবেশেই কাজ করি, ব্যবস্থাটির বোঝাপড়া তত বাড়ে।" প্রতিষ্ঠানটি শুরুতে অনির্ভরযোগ্য জিপিএস, দুর্বল নেটওয়ার্ক ও ঘন ধুলার মতো কঠিন পরিস্থিতিতে মনোযোগ দিয়েছিল; বনসাই ওয়ার্ল্ড সেই অভিজ্ঞতা নতুন জায়গায় নিয়ে যেতে চায়, প্রতিটি পরিস্থিতি মাঠে আগে না দেখেই। এটি তৈরি হয়েছে গুগল ক্লাউড ও এনভিডিয়ার কম্পিউটিং দিয়ে; মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়েছে এনভিডিয়ার প্রসেসর।
বনসাই যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় বিশেষ ফসলের (ফলবাগান ও উদ্যান ফসল) চাষে কাজ করে এবং খনি ও প্রতিরক্ষা খাতেও যাচ্ছে। চাষির জন্য প্রতিশ্রুতি হলো অচেনা মাঠে কম সময়ে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র চালু করা। তবে ফিউচার ফার্মিং লিখেছে, এই ব্যবস্থা মাঠ-পরীক্ষার কতটা সময় বাঁচায় বা সিমুলেশনের কাজ আসল মাঠের সঙ্গে কতটা মেলে, বনসাই তার স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো ফল প্রকাশ করেনি।
সূত্র: Future Farming




মন্তব্য
(০)