ঢাকার কোলঘেঁষে গাজীপুরের সদর, কালীগঞ্জ, কাপাসিয়া ও শ্রীপুর উপজেলার প্রায় ৩৫টি গ্রাম ছুঁয়ে প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটারজুড়ে বেলাই বিল। একসময় এ অঞ্চলকে বলা হতো ‘দেশি মাছের ভান্ডার’; জেলার মোট মাছের চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জোগাত এই বিল। কই, মলা, চিংড়িসহ দেশি মাছ আর বর্ষায় শাপলা তোলায় চলত বিলপাড়ের শত শত মানুষের জীবিকা, শুষ্ক মৌসুমে বিল হয়ে যায় বোরো ধানের জমি।
নদী বাঁচাও আন্দোলনের তথ্য তুলে ধরে নিউজজি২৪ জানিয়েছে, বিলটি শুধু মাছের নয়, গাজীপুরের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনেরও বড় চালিকাশক্তি। কিন্তু শিল্পায়নের সঙ্গে সঙ্গে ভারী কারখানার রাসায়নিক ও বিষাক্ত বর্জ্য চিলাই নদী ও বেলাই বিলের পানিতে পড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে মাছের প্রজনন ও ধান চাষে। মৎস্য দপ্তরের তথ্যমতে, মাছের বৈচিত্র্য ও পরিমাণ দুটোই এখন অর্ধেকের নিচে।
এর সঙ্গে চলছে দখল ও বালু ভরাট। স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশবাদীদের আইনি পদক্ষেপে হাইকোর্ট মাটি ভরাট বন্ধের নির্দেশ দিলেও আইনের কঠোর প্রয়োগের অভাবে বিলের আয়তন দিন দিন কমছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিলের ‘তাজা মাছ’ পরিবেশনকারী হোটেলগুলোর খাবার নিয়েও দূষিত পানি ও অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়াজাতকরণের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রশ্ন উঠছে।
বর্ষায় ভাদার্ত্তী খাল দিয়ে বিলে ঢুকলে এর রূপ সিলেটের রাতারগুল বা হাওরাঞ্চলকে মনে করিয়ে দেয়; প্রতি বর্ষায় হাজারো দর্শনার্থী নৌভ্রমণে আসেন। উপজেলা প্রশাসন প্রচারণায় প্রামাণ্যচিত্র তৈরি ও ভূমিদস্যু ঠেকানোর কিছু পদক্ষেপ নিলেও পূর্ণাঙ্গ পর্যটনকেন্দ্রের অবকাঠামো এখনো নেই।
প্রতিবেদনে বিল বাঁচাতে তিনটি পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে: বর্জ্য সরাসরি বিলে ফেলা কারখানাকে ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) চালাতে বাধ্য করা ও পরিবেশ আইনে শাস্তি নিশ্চিত করা; হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বালু ভরাট পুরোপুরি বন্ধ করে বিলের আগের সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও প্রয়োজনমতো খনন; এবং জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে পরিবেশবান্ধব পর্যটন অবকাঠামো ও প্লাস্টিক দূষণে নজরদারি।
প্রতিবেদনটি নিউজজি২৪-এর গাজীপুর প্রতিনিধির।
ছবি: Foeyz / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: নিউজজি২৪





মন্তব্য
(০)