আমাদের চারপাশে অনেকেই সবসময় অন্যকে হেয় ও হাসির পাত্র করে তোলেন। বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কলামে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ শাহানা হুদা রঞ্জনা লিখেছেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে এমন করা হলে তা ‘গ্যাসলাইটিং’: সঙ্গীর মনের ওপর এমন চাপ, যাতে তিনি নিজের দেখা ঘটনা, অনুভূতি, স্মৃতি আর বিচারবোধকেই ভুল ভাবতে শুরু করেন। লেখকের মতে, অন্যকে হেয় করে নিয়ন্ত্রণের এই প্রবণতা এক ধরনের মানসিক অসুস্থতা।
তাঁর লেখায়, এ আচরণ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় দাম্পত্য ও প্রেমের সম্পর্কে, আর এটি পারিবারিক সহিংসতার বড় অস্ত্র। উদাহরণ দিয়েছেন তিনি: কেউ নিয়মিত স্ত্রীকে ঘরে-বাইরে অপমান করেন, পরে বলেন ‘তুমি ভুল বুঝেছ’; বারবার এমন অস্বীকারে ভুক্তভোগী একসময় নিজের উপলব্ধিকেই সন্দেহ করেন। স্বামীর ওপরও এমন আচরণ হতে পারে, যেমন সারাক্ষণ সন্দেহ আর নজরদারি।
লেখক মনে করিয়ে দিয়েছেন, গ্যাসলাইটিং আর মতবিরোধ এক নয়; ভুক্তভোগী প্রথমে কথা বললেও পরে নিজেকে গুটিয়ে নেন। বাবা-মা যখন সন্তানকে অন্যের সামনে বোকা বা অক্ষম বলে ছোট করেন, তখনো সন্তানের আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়। কর্মক্ষেত্রে দক্ষ কর্মীর আত্মবিশ্বাস ভেঙে নিয়ন্ত্রণ, কিংবা বয়স, চেহারা, পোশাক, জাতি বা বিশ্বাস নিয়ে কটূক্তিও এর নানা রূপ বলে লিখেছেন তিনি।
মুক্তির উপায় হিসেবে মনোবিজ্ঞানীদের পরামর্শ তুলে ধরেছেন লেখক: নিজের তথ্যের পক্ষে প্রমাণ জোগাড় করা, বিশ্বস্ত বন্ধু ও কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলা, প্রয়োজনে কথোপকথন রেকর্ড রাখা, সহায়তা কেন্দ্র ও মনোবিজ্ঞানীর সহায়তা নেওয়া এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা, যাতে নির্যাতনকারী মিথ্যা গল্প দাঁড় করাতে না পারেন। তাঁর মতে, গ্যাসলাইটিং জবরদস্তিমূলক নিয়ন্ত্রণের অংশ, তাই সহজ না হলেও এমন সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করা উচিত।
এই লেখার মতামত লেখকের নিজস্ব।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন



মন্তব্য
(০)