বিষটোপে যে ইঁদুর মরে না, তা ধরতে দেশীয় প্রযুক্তির একটি ফাঁদ বানিয়ে সাফল্য পেয়েছেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কৃষক দারুল ইসলাম। বাঁশ, পাটের রশি আর ফেলে দেওয়া সাইকেল বা রিকশার টিউব দিয়ে তৈরি এই ফাঁদ গত আউশ মৌসুমে তিনি নিজের ১০ কাঠা জমিতে ব্যবহার করে তিন শতাধিক ইঁদুর নিধন করেছেন। এবার আমন মৌসুমে ফাঁদটি ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও।
দারুল ইসলাম রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের আনুহাদী গ্রামের কৃষক। প্রতিটি ফাঁদ তিনি বিক্রি করছেন ১০০ টাকায়। গ্রামের অনেক কৃষক চার-পাঁচটি করে ফাঁদ কিনে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের জমিতে বসাচ্ছেন।
ফাঁদটি বানাতে লাগে চার ইঞ্চি পুরু ও এক ফুট লম্বা একটি বাঁশ, তিন ইঞ্চি পুরু ও দেড় ফুট লম্বা আরেকটি বাঁশ, পাটের রশি এবং পুরোনো সাইকেল বা রিকশার টিউব। দারুল ইসলামের দাবি, ধান ছাড়াও অন্যান্য ফসলের জমিতে, এমনকি পানি থাকা জমিতেও এটি দিয়ে ইঁদুর ধরা যায়। তাঁর কথায়, ‘যে কেউ খুব সহজেই এই ইঁদুর নিধনের যন্ত্র তৈরি করতে পারেন।’
একই গ্রামের কৃষক আবদুর রহমান জানান, বাজার থেকে কেনা বিষটোপে অনেক সময় ইঁদুর মরে না, বরং এক জমি থেকে অন্য জমিতে সরে যায়; বাঁশের ফাঁদে গ্রামের অনেকে ইঁদুর দমনে সফল হয়েছেন। কৃষক জাহাঙ্গীর আলমও বলেন, বিষটোপে যেখানে দমন কঠিন, সেখানে এই ফাঁদে সহজেই ইঁদুর ধরা পড়ে।
এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহ আলমও একই কথা বলেন: জমিতে ইঁদুরের উৎপাত বাড়লে কৃষকেরা সাধারণত বিষটোপ দেন, তাতে এক জমির ইঁদুর অন্য জমিতে চলে যেতে পারে। তাঁর মতে দারুল ইসলামের দেশীয় প্রযুক্তির ফাঁদ ইঁদুর দমনে কার্যকর; আউশ মৌসুমে এ ফাঁদে প্রায় ৩০০ ইঁদুর ধরা পড়েছে এবং অন্য কৃষকেরাও সফল হয়েছেন।
তবে শাহ আলম মনে করিয়ে দেন, ইঁদুর দমনে একজন কৃষকের একক চেষ্টার পাশাপাশি আশপাশের কৃষকদের সম্মিলিত উদ্যোগ দরকার। আমনের খেতে বিষটোপ যেখানে কাজ করে না, সেখানে কম খরচের এমন একটি ফাঁদ তাই পুরো মাঠের কৃষকেরা একসঙ্গে ব্যবহার করলেই সবচেয়ে বেশি কাজে আসে।
প্রতিবেদনটি ঢাকা মেইলের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি এম এ কালামের।
সূত্র: ঢাকা মেইল





মন্তব্য
(০)