দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় আগাম জাতের আমন ধান কাটা-মাড়াই চলছে, ফলনও ভালো হয়েছে; কিন্তু বাজারে ধানের দাম পড়ে যাওয়ায় বিঘাপ্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা লোকসান গুনছেন কৃষকেরা। সংসারের খরচ আর আমন চাষের জন্য নেওয়া ঋণ শোধের চাপে লোকসান জেনেও অনেকে ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৮ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা, যার মধ্যে আগাম জাত ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর; আগাম জাতের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ৪১৫ টন। আগাম ধান সাধারণত ৯০ থেকে ১১০ দিনে পাকে। এরপর ওই জমিতে আগাম আলু, আর আলুর পর ভুট্টা চাষ করেন অনেকে।
কৃষকদের হিসাবে প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকার বেশি। ফলন ১৮ থেকে ২২ মণ, আর প্রকারভেদে মণপ্রতি ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি করে মিলছে ১৭ থেকে ১৯ হাজার টাকা। দাদপুর গ্রামের কৃষক বিদ্যুৎ রহমান জানান, ৩ বিঘায় আগাম আমনে বিঘাপ্রতি ২০-২২ হাজার টাকা খরচ করে ১৮-২০ মণ ধান পেয়েছেন; ৭৫০ টাকা মণ দরে পাচ্ছেন ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা।
আলাদীপুর ইউনিয়নের খড়মপুর গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে তিন বিঘা বর্গা জমিতে ধান চাষ করেছেন, খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। দাম কমে যাওয়ায় ঋণ শোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। শিবনগর ইউনিয়নের মালিপাড়ার চাষি হাফিজুর রহমান বলেন, ধান ঘরে তোলার পরপরই পারিবারিক খরচ ও ঋণ শোধ করতে হয়, তাই দাম কম থাকলেও বাধ্য হয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।
কৃষকেরা বলছেন, সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক, কাটা ও মাড়াই—সব খরচ বেড়েছে। ফুলবাড়ী বাজারের ধান আড়তদার লিটন প্রসাদ জানান, আগাম হাইব্রিড ধান বাজারে ওঠার পর থেকে দাম কমছে; গত দেড় সপ্তাহে মণপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
উপজেলা চালকল মালিক সমিতির নেতা মঞ্জিল মোরশেদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিপুল চাল আমদানির কারণে দেশি চালের চাহিদা কমেছে, এবং এর প্রভাব আমনের ভরা মৌসুমেও থাকলে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শাহানুর রহমান বলেন, ধানের বাজারদর কৃষি বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করে না; তবে উৎপাদন ব্যয় কমাতে বিভিন্ন সময়ে কৃষকদের বীজ ও রাসায়নিক সার দেওয়া হয়েছে।
লোকসানের এই চাপ পড়ছে পরের ফসলেও—আমনের খরচ তোলার পাশাপাশি আগাম শীতকালীন সবজি চাষে বিনিয়োগ নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকেরা।
প্রতিবেদন: ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি, সমকাল।
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)