ডাউন টু আর্থে প্রকাশিত এক কলামে জনস্বাস্থ্য গবেষক মনিকা অরোরা, উইলিয়াম জো ও টিনা রাওয়াল লিখেছেন, খাবারের প্যাকেটের ছোট্ট একটি চিহ্ন ভারতের অন্যতম কার্যকর জনস্বাস্থ্য পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে। মতামত লেখকদের নিজস্ব।
ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই) সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া হলফনামায় প্রস্তাব করেছে, বেশি চিনি, স্যাচুরেটেড চর্বি ও লবণযুক্ত প্যাকেটজাত খাবার এবং নির্দিষ্ট অতিমিষ্ট পানীয়ের গায়ে লাল ষড়ভুজ সতর্কচিহ্ন থাকবে। লেখকদের মতে, কেনার মুহূর্তে পুষ্টির তথ্য চোখের সামনে আনার পথে এটি বড় পদক্ষেপ।
তাঁরা দেখিয়েছেন, ভারতের খাদ্যাভ্যাস দ্রুত বদলাচ্ছে। জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী ২০০৫-০৬ থেকে ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, গ্রামে বেড়েছে আরও দ্রুত। অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর হার বড়, আর প্যাকেটজাত ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রামের বাজারেও পৌঁছে গেছে।
লেখকদের যুক্তি, প্যাকেটের পেছনের পুষ্টি সারণি বুঝতে সময় ও পুষ্টিবিজ্ঞানের কিছু জ্ঞান লাগে। চিলির কালো সতর্কচিহ্ন, ফ্রান্সের নিউট্রি-স্কোর ও নর্ডিক দেশগুলোর 'কিহোল' চিহ্ন নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের লেবেল ক্রেতার বোঝাপড়া বাড়ায়; একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় সতর্কচিহ্নের সঙ্গে বেশি চিনি, লবণ বা চর্বিযুক্ত পণ্য কেনা কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ভারতের এক গবেষণায় ৭২ দশমিক ৫৮ শতাংশ কিশোর-কিশোরী জানিয়েছে তারা প্যাকেটের পুষ্টি তথ্য পড়ে, আর ৬২ দশমিক ৮১ শতাংশ বলেছে তথ্যগুলো সহজ হওয়া দরকার।
লেখকেরা দুটি উন্নতি চেয়েছেন: চিনি, লবণ বা চর্বির যেকোনো একটি বেশি হলেই আলাদাভাবে সতর্কচিহ্ন বসা উচিত, আর লেবেলটি আইসিএমআরের জাতীয় পুষ্টি ইনস্টিটিউটের খাদ্য নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা উচিত। শিশু-কিশোরদের কাছে অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিপণনে কড়াকড়ি ও করারোপকেও তাঁরা বৃহত্তর সমাধানের অংশ বলেছেন।
সূত্র: ডাউন টু আর্থ



মন্তব্য
(০)