ব্যস্ত সকালে প্যাকেট থেকে বের করে কয়েক মিনিট তাওয়ায় সেঁকে নিলেই হয় বলে ফ্রোজেন রুটি-পরোটার চাহিদা কর্মজীবীদের মধ্যে বাড়ছে। কিন্তু এটিকে রোজকার অভ্যাস বানানো কতটা ঠিক, সে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন টাঙ্গাইলের সরকারি কুমুদিনী কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান শম্পা শারমিন খান। তাঁর মতে, বাজারের বাণিজ্যিক ফ্রোজেন রুটি বা পরোটাকে প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর নাশতা ধরা সমীচীন নয়।
পুষ্টি বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, রুটি-পরোটা মূলত শর্করার উৎস, আর হিমায়িত করায় এর শর্করার পরিমাণ বদলায় না; শরীরে এর প্রভাব নির্ভর করে উপকরণ আর তৈরির প্রণালির ওপর।
শম্পা শারমিন খান জানান, বাণিজ্যিক ফ্রোজেন রুটির বেশির ভাগই পরিশোধিত আটা বা ময়দার, যাতে আঁশ খুবই কম। আঁশ কম হলে খাবার দ্রুত হজম হয়ে রক্তে শর্করা হঠাৎ বেড়ে যায়, তারপর হঠাৎ নেমে গেলে দ্রুত খিদে পায়, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়; ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য এই ওঠানামা ঝুঁকির। দীর্ঘদিন রাখার জন্য প্যাকেটজাত রুটিতে প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের আশঙ্কাও থাকে।
ফ্রোজেন পরোটায় ঝুঁকি আরও বেশি বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞেরা: ঘরে পরোটা বানালে তেলের পরিমাণ ও মান নিজের হাতে থাকে, প্যাকেটে তা থাকে না, আর বেশির ভাগ প্যাকেটজাত পরোটায় বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাট থাকার ঝুঁকি থাকে। দীর্ঘদিন এমন চর্বিযুক্ত খাবার হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায় বলে জানান তাঁরা।
বিকল্প কী? নিরুপায় হলে ময়দার বদলে লাল আটার ফ্রোজেন রুটি অপেক্ষাকৃত নিরাপদ, কারণ এর আঁশে শর্করা ধীরে বাড়ে আর অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, সকালের নাশতায় ঘরে তৈরি লাল আটার তাজা রুটি, সেদ্ধ ডিম আর পর্যাপ্ত সবজিই সবচেয়ে ভালো, আর পরোটা খেতে হলে ঘরে বানিয়ে তেল নিয়ন্ত্রণে রাখাই নিরাপদ। প্রতিবেদনটি দিনাজপুর টিভির।
ছবি: Sankarshan Mukhopadhyay / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: দিনাজপুর টিভি


মন্তব্য
(০)